ছাত্রদের ওপর মানুষের যে আস্থা তা অনেক রাজনৈতিক দলের ওপর নেই বলে মন্তব্য করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক সারজিস আলম। তিনি বলেছেন, এত মানুষ যে আস্থা রেখেছে এখন সময় হচ্ছে তাদের আস্থার প্রতিদান দেওয়া। রবিবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিকালে মুন্সীগঞ্জ শহরের সরকারি হরগঙ্গা কলেজ মাঠে ‘গণঅভ্যুত্থানের প্রেরণায় শহীদ পরিবারের সাথে সাক্ষাৎ এবং দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ছাত্র-নাগরিক’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহবান জানিয়ে ছাত্র-জনতার উদ্দেশ্যে সমন্বয়ক সারজিস আলম বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট সরকারের নির্যাতন-নিপীড়নের ডকুমেন্টসগুলো জীবন্ত রাখতে হবে। তারা চাইবে স্মৃতিগুলো ভুলিয়ে দিতে। যদি এগুলো ভুলে না যান তাহলে তারা আবার ক্ষমতায় বসতে পারবে না।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, স্কিলফুল হতে হবে। সময়ের প্রয়োজনে সবই করতে হবে। কিন্তু প্রথম ও প্রধান কাজটি হলো পড়াশোনা ঠিক রাখা।
সারজিস বলেন, ‘বিগত ১৬ বছর ধরে বাংলাদেশের প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দল তাদের সর্বোচ্চটুকু দিয়ে চেষ্টা করেছে। তারা ওই ফ্যাসিস্ট সরকারকে নাকি পতন ঘটাবে। তারা কি পেরেছে? ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের জন্য বিগত ১৬ বছর ধরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ঈদের পরে, পূজার পরে, বিভিন্ন সময়ের পরে বিভিন্ন প্রোগ্রাম দেওয়ার চেষ্টা করেছে, তারা কি পেরেছিলো? আপনাদের একটি জিনিস মনে রাখতে হবে। যেদিন ছাত্র-জনতা ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাঠে নেমেছে এবং ছাত্ররা সামনের সারিতে ছিলো সেদিনই ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন ঘটেছে।
এর আগে সকালে মুন্সীগঞ্জে আন্দোলনে নিহত ও আহতদের পরিবারের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তারা। পরে সেখানেই জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন সমন্বয়করা। এতে জেলা জাতীয় পার্টির একাংশ, জামায়াতে ইসলাম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির নেতাকর্মীরা অংশ নেন। তবে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের কোনো নেতাকর্মী এই মতবিনিময় সভায় অংশ নেননি।
মতবিনিময় সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটির সমন্বয়ক আব্দুল তাহরিব রায়হান, কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক আব্দুল্লাহ সালেহী অয়ন, সমন্বয়ক ইব্রাহিম নীরব, মুবাসেরুল হাসান মৃধা, শ্যামলি সূচনা জেদনি প্রমুখ।