নাটোরের লালপুরে টাকা ছাড়া কাজ করেন না বিডিএস ভূমি জরিপের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। জরিপ কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর থেকে বিভিন্ন জমির মালিককে জিম্মি করে কৌশলে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন তারা। টাকার বিনিময়ে একজনের জমি অন্যজনের নামে রেকর্ডও করে দেওয়া হচ্ছে। এতে আদালতে মামলাসহ নানা জটিলতায় পড়ছেন জমির প্রকৃত মালিকরা।
এর আগে গত ২২ আগস্ট জরিপ বন্ধে জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর লিখিত অভিযোগও দিয়েছেন এলাকাবাসী। দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তাদের অপসারণসহ জরিপ কার্যক্রম বন্ধ করে আরএস রেকর্ড বলবৎ বা পুনরায় সঠিকভাবে বিডিএস জরিপ করার দাবি জানান এলাকাবাসী।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি উপজেলার ১৪৪ নম্বর নুরুল্লাপুর মৌজায় শুরু করা হয় বিডিএস জরিপের কার্যক্রম। কোন নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে জরিপের দায়িত্বে থাকা তদন্তকারী কর্মকর্তা অনন্ত কুমার মুকুল মনী ও তার সহযোগীরা জমির মালিকদের কাছ থেকে দুর্নীতির মাধ্যমে হাতিয়ে নিচ্ছে খতিয়ানপ্রতি ৫ হাজার টাকা। মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে একজনের জমি অন্য জনের নামে খতিয়ান সৃজন করে দিয়ে আত্মীয়-স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশী, এমনকি নিজের ভাই-বোনের মধ্যেও দ্বন্দ্ব সৃষ্টি করে দিচ্ছে। এ কারণে আদালতে মামলাসহ নানা সমস্যায় জড়িয়ে পড়ছেন জমির প্রকৃত মালিকরা। স্থানীয় কিছু দালাল চক্রের মাধ্যমে সংশ্লিষ্টরা খতিয়ান সৃজনের নামে লুটপাট চালাচ্ছে বলেও অভিযোগ জমির মালিকদের।
ভুক্তভোগী মিজানুর রহমান জানান, তার জমি ২৫ শতাংশ। কিন্তু বিডিএস (বাংলাদেশ ডিজিটাল সার্ভে) ভূমি জরিপে দেখানো হয়েছে ১৮ শতাংশ। সেটেলমেন্ট অফিসের কর্মকর্তারা জমির পরিমাণ কম ধরে ম্যাপ করেছেন। একই সঙ্গে টাকা ছাড়া কারও জমি রেকর্ড করা হচ্ছে না।
আরেক ভুক্তভোগী মুজদার রহমান বলেন, তার ১২ শতাংশ জমি রেকর্ড করতে ৬ হাজার টাকা দাবি করা হয়। টাকা না দেওয়ায় কাজ বন্ধ রাখা হয়। পরে বাধ্য হয়ে দালাল আবু জাফরের মাধ্যমে রেকর্ড করতে আসা আবদুল মজিদকে ৫ হাজার টাকা ঘুষ দিয়ে কাজ সম্পন্ন করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত তদন্তকারী কর্মকর্তা অনন্ত কুমার মুকুল মনীকে একাধিকবার কল দিলেও তিনি ফোন ধরেননি।
রাজশাহী সার্কেলের দিয়ারা সেটেলমেন্ট অফিসের কর্মকর্তা আতিয়ার রহমান বলেন, ‘জরিপ কাজের জন্য কেউ টাকা নিতে পারবে না। কেউ অবৈধভাবে টাকা আদায় বা ঘুষ চাইলে লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’