নিজেকে আর ব্যাটসম্যান ভাবেন না পাকিস্তানের ‘চাচা’

পাকিস্তান ক্রিকেটে ইফতিখার আহমেদ ‘চাচা’ হিসেবে খ্যাতি পেয়েছেন। এই ক্রিকেটার মূলত স্পেশালিষ্ট ব্যাটসম্যান। তবে দলে ক্রমশ তার ভূমিকাই বদলে যাচ্ছে। মিডল অর্ডার থেকে ব্যাট করেন প্রায়ই নিচের দিকে, আবার কিছু ক্ষেত্রে পার্টটাইমার হলেও খেলছেন অলরাউন্ডার হিসেবে। সব মিলিয়ে তিনি নিজেও আর নিজেকে স্পেশালিষ্ট ব্যাটার বলে মনে করছেন না। ইফতিখার সোজাসুজি বলেছেন, তিনি এখন স্রেফ এখন টেলএন্ডার।

সাদা বলের ক্রিকেটে ইফতিখার দারুণ একজন ক্রিকেটারই। মিডল অর্ডারে নেমে দ্রুতগতিতে রান করার কাজটা বেশ ভালো করতে পারেন তিনি। সাথে ছিল টুকটাক অফ স্পিন। তবে দলের প্রয়োজনে আর তার বোলিং ভালো হওয়ায় এখন নিয়মিতই তার হাতে উঠছে বল। আর ব্যাটিংয়ে নেমে যেতে হচ্ছে সাত এমনকি আট নম্বরেও। ফলে দলে তার ভূমিকা হয়ে উঠছে মিনি অলরাউন্ডারের।

বিষয়টি যে তার কাছে উপভোগ্য নয়, সেটা স্পষ্ট হয়েছে গত রবিবার অনুশীলন ক্যাম্পে এক সাংবাদিককে দেওয়া তার প্রশ্নের জবাবে। যেখানে প্রশ্নটা ছিল মিডল অর্ডারে ইফতিখার তার ফর্ম নিয়ে চিন্তিত কিনা তা নিয়ে, ‘আরে ভাই আমি তো মিডল অর্ডার ব্যাটার নই, আমি হলাম টেলএন্ডার। বিশ্বের যত মিডল অর্ডার ব্যাটার বা অলরাউন্ডার আছে তারা ৪-৫ নম্বরে খেলে, কিন্তু আমি ৭-৮ নম্বরে ব্যাট করি। তাই আমি এখন নিজেকে একজন টেলএন্ডার ব্যাটার হিসেবেই চিন্তা করি।’

ইফতিখার যা বলেছেন, ‘সেটা পাকিস্তান জাতীয় দলে তার অবস্থান ও ভূমিকা নিয়ে হতাশাই প্রকাশ করে। কারণ, ইনিংসের শেষের দিকে নেমে ফিনিশার হিসেবে তিনি বেশ কিছু দুর্দান্ত ইনিংস খেলেছেন। বড় ইনিংসও আছে কয়েকটি উল্লেখযোগ্য। ফলে তাকে টেলএন্ডার কোনোভাবেই বলা যায় না, কারণ এটি মূলত বোলারদের ক্ষেত্রেই বলা হয়, যারা কিনা কিঞ্চিত ব্যাটিং করতে পারে।’

পাকিস্তানের হয়ে এখন পর্যন্ত ২৮টি ওয়ানডে ও ৬৬টি টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন ইফতিখার। রান করেছেন যথাক্রমে ৬১৪ ও ৯৯৮। দুই ফরম্যাটেই স্ট্রাইক রেট ১০০-এর বেশি। ওয়ানডেতে করেছেন একটি করে সেঞ্চুরি ও ফিফটি, আর টি-টোয়েন্টিতে তার নামের পাশে চারটি ফিফটি রয়েছে। চারটি টেস্ট খেললেও নেই বলার মত অর্জন। সব ফরম্যাট মিলিয়ে ইফতিখার উইকেট নিয়েছেন মোটে ২৫টি।