জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান জি এম কাদের বলেছেন, জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নামে অসংখ্য মামলা দেয়া হয়েছিল। হত্যার ১৫ বছর পরে মঞ্জুর (মেজর জেনারেল আবুল মঞ্জুর) হত্যায় মিথ্যা মামলা দেয়া হয়েছিল হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নামে। এই মামলায় অন্তত ২০ বার রায় ঘোষণার আগে বিচারক পরিবর্তন করে মামলা চালু রাখা হয়েছিল। সেই মিথ্যা মামলা নিয়েই এরশাদ মৃত্যুবরণ করেন। বিএনপির আমলে দেয়া মঞ্জুর হত্যা মামলা দিয়ে আওয়ামী লীগ হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে ব্ল্যাকমেল করেছিল।
তিনি বলেন, ১৯৯০ সালে জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ তিন জোটের রূপরেখা অনুযায়ী ক্ষমতা হস্তান্তর করেছিলেন। কথা ছিল সবাই মিলে একটি সুন্দর নির্বাচন করব। পরে দেখা গেল হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ও জাতীয় পার্টিকে নির্বাচন করতে দেয়া হবে না এমন ষড়যন্ত্র শুরু হলো।
গণমানুষের আন্দোলনের মুখে, বিশেষ করে রংপুরের মানুষের অন্দোলনের ফলে এরশাদ সাহেবকে নির্বাচন করতে দেয়া হলো। নির্বাচনে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ জেলে থেকেই ৫টি আসনে এবং ৩৪টি আসনে জয়ী হয়েছিল জাতীয় পার্টি।
আজ সোমবার দলের বনানী কার্যালয়ে জাতীয় ছাত্রসমাজ কেন্দ্রীয় কমিটির সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান বলেন, আমি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ছাত্রদের বলেছিলাম, তোমরা শহীদ মিনারে গিয়ে শপথ নাও। শহীদ মিনার হচ্ছে বৈষম্যের বিরুদ্ধে আন্দোলনের প্রতীক। স্বাধীনতা যুদ্ধে লক্ষ্য ছিল বৈষম্যমুক্ত নিজেদের একটি দেশ। জাতীয় স্মৃতিসৌধ হচ্ছে বৈষম্যমুক্ত রাষ্ট্র গঠনের চেতনার প্রতীক। আওয়ামী লীগ দেশে বৈষম্য সৃষ্টি করেছিল, তাদের শোষণ ও নির্যাতনের জন্যই তাদের পতন হয়েছে। কোন রাজনৈতিক দলের আন্দোলনের মুখে আওয়ামী লীগের পতন হয়নি। সরকারের পতন হয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার অন্দোলনের মুখে। আমরা সব সময় বৈষম্য ও দুর্নীতি ও দুঃশাসনের বিরুদ্ধে কথা বলেছি। সাধারণ মানুষের ধারণা ছিল, ছাত্ররা রাজনীতিতে আসতে চায় না। কেউই বুঝতে পারেনি, ছাত্ররা এতটাই রাজনীতি সচেতন। প্রমাণ করেছে, ছাত্ররা আমাদের চেয়ে বেশি রাজনীতি বোঝে। ছাত্রদের প্রধান শক্তি হচ্ছে একতা আর দ্বিতীয় শক্তি হচ্ছে জনগণের আস্থা। ছাত্রদের প্রতি জনগণের আস্থা ছিল, তারা দেশের জন্যই আন্দোলন করেছে। সেজন্যই ছাত্রদের ঐক্য ধরে রাখতে হবে এবং ক্ষমতা ও লোভ লালসার বাইরে থাকতে হবে।
জি এম কাদের বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আমরা শুরু থেকেই ছাত্রদের ন্যায্য দাবির পক্ষে ছিলাম। কোটা পদ্ধতির বিপক্ষে আমরা সংসদে কথা বলেছি। সংসদের বাইরেও বক্তৃতা ও বিবৃতিতে আমরা বলেছি, চাকরিতে কোটা পদ্ধতি হচ্ছে সংবিধান পরিপন্থী। আওয়ামী লীগ সরকারের দুর্নীতি, টাকা পাচার, বৈষম্যের মাধ্যমে জাতিকে বিভাজন করার বিরোধিতা করে আমরা সব সময় কথা বলেছি। সংসদে আমি শেখ হাসিনার সামনেও আওয়ামী লীগের দুর্নীতি ও দুঃশাসনের বিরুদ্ধে কথা বলেছি। যখন মানুষের নিরাপত্তা ছিল না... জীবনের নিশ্চয়তা ছিল না, তখনও আমরা সরকারের সমালোচনা করতে পিছপা হইনি। আওয়ামী লীগ আমাদের দলকে নষ্ট করতে চেয়েছে, একইসাথে আমাদের রাজনীতি করতেও বাধা দিয়েছে। দল না থাকলে রাজনীতি থাকে না, আবার রাজনীতি না থাকলে দলও থাকে না।