বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (পিজি) হাসপাতালের সামনে অটোরিকশার ধাক্কায় তানিয়া খানম (৩৫) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। আজ সোমবার বেলা ৩টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। গুরুতর অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি করা হলে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তিনি মারা যান। তার বাড়ি বাগেরহাটের মোল্লারহাট থানার কাহালপুর গ্রামে। স্বামীর নাম মো. হাসিবুর রহমান। থাকতেন আজিমপুর কলোনিতে।
তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসা পথচারী সুমাইয়া সুমা জানান, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের রাস্তায় শিশু সন্তানকে নিয়ে বসেছিলেন ওই নারী। পাশেই একটি অটোরিকশা দাঁড় করিয়ে রাখা ছিল। এর চালক সিগারেট কিনতে একটু দূরে যান। তখন কেউ রিকশাটির হাতলে হাত দিলে রিকশাটি সামনের দিকে দ্রুত গতিতে চলতে শুরু করে। তখন সামনে বসে থাকা ওই নরীর ওপর দিয়ে উঠে যায় রিকশাটি। এতে শিশুটির কিছু না হলেও গুরুতর আহত হন তিনি। সঙ্গে সঙ্গে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে যাওয়া হয়। সঙ্গে আটক করে নিয়ে যাওয়া হয় রিকশাচালককেও। সেখানে ভর্তি করা হয় তানিয়াকে। তখন খবর পেয়ে তার স্বামী ও স্বজনরা হাসপাতালে যান। তারাই রিকশাচালককে ছেড়ে দিতে বলেন।
এদিকে নিহতের দেবর শেখ মাসুম বিল্লাহ জানান, তার বড় ভাই এবং ভাবি থাকেন আজিমপুর কলোনিতে। ভাই হাসিবুর রহমান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (সাবেক পিজি হাসপাতাল) অফিস সহায়ক হিসেবে চাকরি করেন। দুই মেয়ে ও এক ছেলের জনক জননি তারা। সোমবার বড় ছেলে ও মেয়েকে স্কুলে দিয়ে আড়াই বছরের মেয়ে তাসফিয়াকে নিয়ে নিজের দাঁতের চিকিৎসার জন্য গিয়েছিলেন পিজি হাসপাতালের। দুপুরে ডাক্তার দেখানো শেষ করে পিজি হাসপাতালের সামনে রাস্তায় বসে ছিলেন স্বামীর ডিউটি শেষ হলে একসাথে বাসায় ফিরবেন বলে। তখনই অটোরিকশা ধাক্কায় তিনি আহত হন এবং পরবর্তী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তিনি মারা যান।
তিনি আরও জানান, তানিয়া গ্রামের বাড়িতে নিজেদের একটি স্কুলে শিক্ষকতা করতেন। তবে সন্তানদের দেখাশোনার জন্য পরবর্তীতে শিক্ষকতা ছেড়ে দেন। বর্তমানে আবার পিজি হাসপাতালের কম্পিউটার অপারেটর পদে চাকরির নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন।
চিকিৎসকের বরাত দিয়ে তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. ফারুক জানান, মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে। ঘটনাটি শাহবাগ থানা পুলিশকে জানানো হয়েছে। তারাই পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে।