চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় জিকে সেচ প্রকল্পের খালের পাড় ভেঙে চার গ্রামের শত শত একর ফসলি জমি প্লাবিত হয়েছে। প্রবল পানির স্রোতে অনেকগুলো পাটের জাগ ভেসে গেছে। এদিকে বাঁধ ভাঙার সাত দিন পরও পাড় মেরামতে এখনও দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
গত তিন বছর আগে পাড় ভেঙে কয়েক গ্রামের ফসলি মাঠ ভেসে গেলেও কর্তৃপক্ষ সে সময় টেকসই পদক্ষেপ নেয়নি। যার ফলে গত বুধবার সন্ধ্যায় আবারও ভেঙে যায় আলমডাঙ্গা উপজেলার কেদারনগর গ্রামের ভেতর দিয়ে বয়ে যাওয়া গঙ্গা-কপোতাক্ষ সেচ প্রকল্পের জিকে খালের বাঁধ।
নিরুপায় কৃষক চোখের সামনে দেখেছে তাদের স্বপ্নের ফসল পানিতে ডুবে যাওয়ার নিদারুণ দৃশ্য। প্রবল স্রোতে ভেসে গেছে চারটি গ্রামের শত শত বিঘা জমির ধান ও পাট। এছাড়া কয়েকটি পুকুর ও ঘেরের মাছ ভেসে গেছে।
স্থানীয়রা জানান, আলমডাঙ্গা উপজেলার কেদারনগর গ্রামের ভেতর দিয়ে বয়ে গেছে গঙ্গা কপোতাক্ষ সেচ প্রকল্পের ইরিগেশন খাল (টি-৩ জি)। আট কপাট থেকে ওই খালের ৪টি স্লুইসগেট খুলে দেওয়া হয়েছে। গত বুধবার বিকেলে প্রচণ্ড পানির চাপে কেদারনগর গ্রামের ভেতর খালের এক পাড় ভেঙে যায়। এতে উপজেলার বেলগাছি, পোয়ামারি, খেজুরতলা ও কেদারনগর গ্রামের মাঠের ধান তলিয়ে গেছে।
জানা যায়, একইস্থানে পর পর তিন বছর পাড় ভেঙেছে। অথচ, কর্তৃপক্ষ টেকসই মেরামত করেনি। দায়সারা কাজ করেছে কর্তৃপক্ষ এমন অভিযোগ তুলে এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।
বেলগাছি ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মেহেরাজ আলী বলেন, গ্রামের কিছু বাড়িতে পানি ঢুকেছে। ফসলি জমিতেও পানি এসেছে। পাড় মেরামত না করা হলে সব থেকে বেশি ফসলের ক্ষতি হবে।
চুয়াডাঙ্গা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফ আহমেদ বলেন, আগামী ১০ দিনের মধ্যে বাঁধের সংস্কার করে পুনরায় সেচ সুবিধা নিশ্চিত করা হবে।
এদিকে পানি বাড়ায় জিকে সেচ প্রকল্পের সুইচ গেইট বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। তবে দ্রুতই বাঁধ মেরামত করে খালের স্লুইসগেট খুলে পানি চলমান রাখার দাবি কৃষকদের।