পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মুক্তি চেয়ে দেশজুড়ে চলছে বিক্ষোভ। রোববার (৮ সেপ্টেম্বর) দেশটির রাজধানী ইসলামাবাদে ইমরানের মুক্তির দাবিতে বিশাল সমাবেশ করে তার দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)। এ সমাবেশের পর সোমবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাত পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে পিটিআইয়ের কয়েকজন নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম দ্য ডনের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদেনে বলা হয়, গ্রেপ্তারকৃত নেতাদের মধ্যে রয়েছেন পিটিআই চেয়ারম্যান গোহর আলী খান। এছাড়াও শের আফজাল মারওয়াত, ওয়াজিরিস্তানের এমএনএ জুবায়ের খান এবং আইনজীবী শোয়েব শাহীনকে গ্রেপ্তারের খবর পাওয়া যায়।
পিটিআইয়ের এক নেতা দাবি করেছেন, সোমবার রাত থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ইসলামাবাদের বিভিন্ন স্থান থেকে দলের মোট ছয় এমএনএকে গ্রেপ্তার করেছে। এর আগে, পিটিআই প্রাথমিকভাবে দাবি করেছিল— সোমবার রাত থেকে অভিযানে তাদের এক ডজন নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে এ সংখ্যা ৬ জন বলে দলটি জানিয়েছে।
সোমবারের অধিবেশন শেষে বিধানসভা ভবন থেকে বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই গোহর ও মারওয়াতকে সংসদ ভবনের বাইরে থেকে পৃথকভাবে হেফাজতে নেয় পুলিশ। গ্রেপ্তারের ফুটেজে দেখা যায়, আকস্মিক অভিযানে শাহীনকে আটক করা হয়। অফিসে তার কর্মীরা প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করলে পুলিশ ও সাদা পোশাকধারী তাদেরও হেফাজতে নেয়।
এক বিবৃতিতে পিটিআইয়ের আন্তর্জাতিক মিডিয়া সমন্বয়কারী জুলফি বুখারী বলেছেন, মোট ৬ জন আইনপ্রণেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলেন- গোহর, মারওয়াত, এনএ’র চিফ হুইপ মালিক আমির ডোগার, শেখ ওয়াকাস আকরাম, বান্নু সাংসদ নাসিম আলী শাহ এবং শাহ মাহমুদ কুরেশির ছেলে জাইন। তবে বুখারীর দেওয়া তালিকায় গতকাল রাতে গ্রেপ্তার হওয়া জুবেইরের নাম নেই।
বুখারী আরও বলেন, শান্দানা গুলজার, আবদুল লতিফ, হামিদ হুসেন, শাফকাত আওয়ান, আলী মুহাম্মদ খান এনএ’র ভেতরে উপস্থিত ছিলেন; তাই তাদের গ্রেপ্তার করা হয়নি। পিটিআই নেতা জারতাজ গুল, ওমর আইয়ুব এবং সীমাবিয়া তাহিরকেও পুলিশ খুঁজছিল, তবে গ্রেপ্তারের ভয়ে তাদের কেউ কেউ সংসদ ভবনের ভেতরে আশ্রয় নিয়েছিল।
পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা মঙ্গলবার সকালের মধ্যে বিভিন্ন মামলায় অভিযুক্ত পিটিআই নেতাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালাবেন। এই উদ্দেশ্যে নেতাদের বাসভবন এবং অফিসগুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
সংসদীয় নিয়ম অনুযায়ী কোনো এমএনএকে গ্রেপ্তারের আগে পুলিশকে জাতীয় পরিষদের স্পিকারকে অবহিত করতে হয়। তবে এমএনএদের গ্রেপ্তারের আগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বাড়ির জিম্মাদারের অনুমতি চেয়েছিল কিনা তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।