আজকাল অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় সরকার গঠন সম্পর্কে কথাবার্তা হচ্ছে। অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকার জাতীয় ঐক্য সৃষ্টিতে সহায়ক এবং জাতীয় উন্নয়নকে বহুমাত্রায় ত্বরান্বিত করতে পারে। কারণ অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় সরকারে দেশের অতি ক্ষুদ্র দলগুলোও দেশ পরিচালনায় অংশীদার হয়। সুতরাং জাতীয় সরকারের সকল অংশীদার রাজনৈতিক দলগুলোর সামষ্টিক লক্ষ্যবস্তু হয় জাতির উন্নয়ন, এবং সেজন্য সবাই ঐক্যবদ্ধ ভাবে চেষ্টা করে।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বিদ্যমান দলাদলি, সংঘাত, কাদা-ছোঁড়াছুড়ি ও মারামারি থেকে জাতিকে রক্ষা করার জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় সরকার প্রয়োজন। এরূপ অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় সরকারের জন্য প্রার্থীভিত্তিক নির্বাচনের পরিবর্তে দলীয় ভিত্তিক নির্বাচন প্রয়োজন। এটি কোন অভিনব প্রস্তাব নয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দলীয় আদর্শ ভিত্তিক নির্বাচনের মাধ্যমে অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকার গঠিত হয়েছে এবং তারা এর সুফল ভোগ করছে। ইটালি, স্পেন ও নিউজিল্যান্ড এ অভিজ্ঞতার বাস্তব উদাহরণ।
এর বিপরীতে যেখানে একটি জোট বা একটি দল সরকার গঠন করে সেখানে জাতীয় উন্নয়নে অনেক ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হয়। যখন কোন একটি বিশেষ দল বা জোট ক্ষমতায় থাকে তখন ক্ষমতাসীনদের বাইরের দল বা জোটগুলো পরবর্তী নির্বাচনে ক্ষমতায় যাওয়ার চিন্তা করে। পরবর্তী নির্বাচনে বিজয় লাভ করার জন্য তারা দেখাতে চেষ্টা করে যে, বর্তমান ক্ষমতাসীন দল জাতীয় উন্নয়নের ব্যর্থ হয়েছে, সুতরাং আগামী নির্বাচনে তাদেরকে নির্বাচিত করা উচিত। এভাবে ক্ষমতার বাইরের দলগুলো বর্তমান ক্ষমতাসীন দলকে ব্যর্থ করার চেষ্টা করতে থাকে। কারণ জনগণের সামনে বর্তমান ক্ষমতাসীন দলকে ব্যর্থ প্রমাণিত করতে পারলেই ভবিষ্যতে তাদের বিজয়ের সম্ভাবনা উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। সুতরাং তাদের একান্ত চেষ্টা থাকে যেন বর্তমান ক্ষমতাসীন দল ব্যর্থ হয়, তাদের উন্নয়নের প্রকল্পসমূহ সার্থক না হয়, দলে দলে মারামারি কাটাকাটি ও ঝগড়া হয়, হরতাল হয়, ধর্মঘট হয়, সর্বোপরি সকল দিকে গন্ডগোল, ঝামেলা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। এক কথায় বর্তমান ক্ষমতাসীন দলের বাইরের দলগুলো এই চেষ্টায় থাকে যেনো বর্তমান ক্ষমতাসীল দল সকল দিক দিয়ে ব্যর্থ হয়, কারণ ক্ষমতাসীন দলের এ ব্যর্থতাই আগামী নির্বাচনে ক্ষমতার বাইরের দলগুলোর সফল সম্ভাবনাকে বৃদ্ধি করে।