কলম্বাস নন, আমেরিকার আবিষ্কারক ভারতীয় নাবিক: মধ্যপ্রদেশের উচ্চশিক্ষামন্ত্রী

যুক্তরাষ্ট্রের মূলভূখণ্ডসহ আমেরিকা মহাদেশের আবিষ্কারক ক্রিস্টোফার কলম্বাস নন, এক ভারতীয় নাবিক এটি আবিষ্কার করেন। এমন দাবি করেছেন ভারতের মধ্যপ্রদেশের উচ্চশিক্ষামন্ত্রী ইন্দর সিং পারমার। 

রাজ্যের বরকতুল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনের অনুষ্ঠানে স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (১০ সেপ্টেম্বর) এমন বিস্ফোরক মন্তব্য করেন তিনি। খবর দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের।

তিনি দাবি করেন, বেইজিং শহরটি একজন ভারতীয় স্থপতির সাহায্যে ডিজাইন করা হয়েছিল, যিনি ভগবান রামের মূর্তি তৈরি করেছিলেন এবং যারা ঋগবেদ লিখেছেন তারাই প্রথম ভবিষ্যদ্বাণী করেন যে পৃথিবী সূর্যের চারদিকে ঘোরে।

তিনি আরও বলেন, ভাস্কো দা গামা ভারতে আসার সমুদ্রপথও আবিষ্কার করেননি, সেটা করেছিলেন গুজরাটের একজন ব্যবসায়ী, যারর নাম ছিল চন্দন। চন্দনের জাহাজ ছিল ভাস্কো দা গামারটির চেয়েও বিশাল। চন্দনের জাহাজ অনুসরণ করেই ভারতে এসেছিলেন ভাস্কো দা গামা। অথচ ইতিহাসে লেখা হলো তাকে নিয়েই।

প্রাচীন ভারতে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির রমরমা কতটা ছিল, সেটাই ছিল ক্ষমতাসীন বিজেপির এই উচ্চশিক্ষামন্ত্রীর ভাষণের প্রতিপাদ্য। তার ভাষণের শ্রোতাদের মধ্যে ছিলেন ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী।

মন্ত্রী আরও দাবি করেন, ‘ভুল ইতিহাস আমাদের শিখিয়েছে, ১৪৯২ সালে কলম্বাস আমেরিকা আবিষ্কার করেছিলেন। অথচ তার কত আগে অষ্টম শতাব্দীতে ভারতীয় ব্যবসায়ীরা পৌঁছেছিলেন আমেরিকায়। সান দিয়েগোতে তারা বেশ কয়েকটা মন্দিরও তৈরি করেছিলেন। স্থানীয় জাদুঘর ও গ্রন্থাগারে সেই তথ্যাদি রয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, গুজরাটের রান অব কচের মাটি গুড়ে যে দুটো বিশালাকার স্টেডিয়ামের অবশিষ্টাংশ পাওয়া গেছে সেগুলো সাড়ে ৫ হাজার বছর পুরোনো। আমাদের পূর্ব পুরুষরা ক্রীড়া নিয়ে এত তাই এগিয়ে ছিলেন যে আধুনিক অলিম্পিক গেমসের অনেক আগেই তারা এমন অত্যাধুনিক স্টেডিয়াম তৈরি করতে পেরেছেন।    

এখানেই থামেননি তিনি, বলেন, দ্বাদশ শতাব্দীকে চীনের রাজধানী বেইজিংয়ের স্থপতিও ছিলেন একজন ভারতীয়। নাম বাল বাহু। তিনি ছিলেন নেপালের বাসিন্দা, যে দেশটি প্রাচীনকালে ভারতেরই ছিল। 

এ কথাও তিনি বলেন, হাজার হাজার বছর আগে ঋগ্‌বেদে লেখা হয়েছিল সূর্য স্থির থাকে, পৃথিবী ঘোরে তার চারপাশে। পৃথিবীর চারধারে ঘোরে চাঁদ। অথচ ইতিহাসে নাম হয়েছে কোপার্নিকাসের! 

মন্ত্রীর কথায়, ‘এই ভুল ইতিহাস নতুন করে লেখার দায়িত্ব আমাদেরই। প্রাচীন ভারতের ইতিহাস কত সমৃদ্ধ ছিল, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি কত উন্নত ছিল, তা প্রচার করা দরকার। হীনম্মন্যতা কাটিয়ে ভারতবাসীর গর্বিত হওয়া উচিত।’