রাজবাড়ীতে বিএনপির দু’পক্ষের সংঘর্ষ, আহত অর্ধশতাধিক 

রাজবাড়ীতে বিএনপির দু’পক্ষের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে কমপক্ষে ৫০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। বৃহস্পতিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকালে সদর উপজেলার চন্দনী বাসস্ট্যান্ড বাজার এলাকায় এ সংঘর্ষ হয়।

জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিকালে চন্দনী বাসস্ট্যান্ড বাজার এলাকায় বিএনপির দু’টি গ্রুপ পাল্টাপাল্টি কর্মসূচির ঘোষণা করে। এসময় দু’পক্ষেরই কয়েকশ নেতাকর্মী সেখানে উপস্থিত হন। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। পরে ঘটনাস্থলে পুলিশ ও সেনা সদস্যরা গিয়ে পরিবেশ নিয়ন্ত্রণে আনে। এতে দু’পক্ষের লোকজনই আহত হয়েছেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে চন্দনী বাজার এলাকায় থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে।

সদর উপজেলা বিএনপির যুগ্ন আহবায়ক রফিকুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ৫ আগস্ট সরকার পতনের পরপরই চন্দনী ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে চাঁদাবাজি ও হামলার ঘটনা ঘটেছে। অনেক বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয়েছে। এই হামলা ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে চন্দনী ইউনিয়ন বিএনপির উদ্যোগে একটি মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি চন্দনী বাজারে পৌঁছালে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য
মালেক শিকদারের নেতৃত্বে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালানো হয়। এতে আমিসহ অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। এছাড়া হামলা চালিয়ে চেয়ার, মোটরসাইকেল ও দোকানপাট ভাঙচুর করা হয়।

চন্দনী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মালেক শিকদার বলেন, আমি গত ১০ দিন ধরে রাজবাড়ীর বাইরে আছি। আমি শুনেছি চন্দনীতে একটি ঘটনা ঘটেছে। সেখানে যুবদলের নেতারা কর্মীসভা ডেকেছিল। কিন্তু আসলামের অনুসারীরা একই স্থানে পাল্টা কর্মসূচি দেয়। এতে আমাদের নেতাকর্মীদের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ হয়। আমাদের কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। তারা রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গেলে সেখানেও তাদের ওপর হামলার হুমকি দেওয়া হয়। 

রাজবাড়ী জেলা বিএনপির আহবায়ক আইনজীবী লিয়াকত আলী বাবু বলেন, চন্দনী ইউনিয়ন বিএনপির উদ্যোগে একটি সভার আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে একদল সন্ত্রাসী এসে তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। যারা হামলা করেছে তারা বিএনপির কোনো নেতা না। এই হামলার ঘটনায় আইনানুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

রাজবাড়ী সদর থানার ওসি মো. ইফতেখারুল আলম প্রধান জানান, এখন পরিবেশ স্বাভাবিক রয়েছে। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউ কোনো অভিযোগ করেনি।

উল্লেখ্য, রাজবাড়ীতে বিএনপি দু’টি ভাগে বিভক্ত হয়ে নানা কর্মসূচি পালন করে আসছে। এর এক দিকের নেতৃত্বে রয়েছেন বর্তমান জেলা কমিটির আহবায়ক আইনজীবী লিয়াকত আলী, কৃষক দলের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি আসলাম মিয়া ও জেলার সাবেক সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ। অপর পক্ষে নেতৃত্বে রয়েছেন রাজবাড়ী জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম।