হাবিবুর রহমান এক বিস্ময়কর শিশু। বয়স মাত্র সাত বছর। তীক্ষè মেধার অধিকারী। প্রচ- মনোযোগী। সাধারণত এই বয়সী শিশুরা মোটামুটিভাবে প্রাথমিক পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হইচই, খেলাধুলা ও দুষ্টুমিতে দিন পার করে। সেখানে বিস্ময়কর এই শিশু মাত্র ৪৯ দিনে পুরো কোরআন মুখস্থ করে ফেলেছে। শিশু হাবিবের বিশাল এক কৃতিত্ব বলা যায় এটাকে।
হাবিবের বাড়ি নোয়াখালীর সেনবাগ থানায়। তার বাবার নাম মইন উদ্দিন। তিনি একজন প্রবাসী। হাবিব বেগমগঞ্জের সুরেরপোলে অবস্থিত বাইতুল কোরআন ইন্টারন্যাশনাল হিফজ মাদ্রাসার শিক্ষার্থী। তার এমন বিরল কৃতিত্ব অর্জনে তার শিক্ষক ও পরিবারের লোকরা অত্যন্ত আনন্দিত ও উচ্ছ্বসিত।
বাইতুল কোরআন ইন্টারন্যাশনাল হিফজ মাদ্রাসার পরিচালক হাফেজ শাহাদাত হোসেন গণমাধ্যমে বলেন, ‘মহাগ্রন্থ আল কোরআনের অলৌকিক মুজিজায় এমন ঘটনা বিশ্বে প্রায় ঘটছে। আলহামদুলিল্লাহ, আমাদের শিক্ষার্থী হাবিবুর রহমান মাত্র ৪৯ দিনে পুরো কোরআন মুখস্থ করেছে। আমরা তার সফলতা কামনা করি। হাবিবুর রহমান দেশের বিস্ময়কর বালকদের একজন। তার মেধাশক্তি অন্যদের চেয়ে অনেক বেশি তুখোড়। আমরা তার জন্য দোয়া চাই। এত অল্প সময়ে কোরআন মুখস্থ করার বিষয়টি মোটেও সহজ নয়। বরং এর পেছনে শিক্ষক থেকে শুরু করে মা-বাবার অনেক চেষ্টা, শ্রম ও আত্মত্যাগ রয়েছে। সাত বছর বয়সী শিশু হাবিবুর রহমান মাত্র ৪৯ দিনে পুরো কোরআন মুখস্থ করে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছে। এটি আমাদের জন্য গর্বের। আমরা দোয়া করি, আল্লাহ যেন এই শিশুকে দ্বীনের জন্য কবুল করেন।’
হাবিব ২০২৩ সালের শেষ দিকে মাদ্রাসার নুরানি বিভাগে ভর্তি হয়ে পড়ালেখা শুরু করে। ২০২৪ সালের জুলাইয়ের আগেই কোরআন দেখে পড়ে ফেলে। এরপর জুলাইয়ের ১৯ তারিখে পবিত্র কোরআন মুখস্থের পাঠ আরম্ভ করে। অতঃপর ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মাত্র ৪৯ দিনে পুরো কোরআন মুখস্থ করার কৃতিত্ব অর্জন করে।