ইংল্যান্ডের কাউন্টি ক্রিকেটের দিকে হঠাৎ করেই বাংলাদেশিদের অতিমাত্রার আগ্রহের কারণ ছিলেন সাকিব আল হাসান। পাকিস্তানে ঐতিহাসিক টেস্ট সিরিজ জয়ের পর ভারত সফরের আগে এই একটি ম্যাচ খেলতেই কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে থাকা ক্লাব সারের সঙ্গে চুক্তি করেন সাকিব। তবে সারে অভিষেকটা হারের তেতো স্বাদ নিয়েই শেষ হয়েছে অলরাউন্ডারের। শেষ দিনের মিনিট পাঁচেক বাকি থাকতেই ১৪ রানের মধ্যে সারের ৭ ব্যাটারকে ফিরিয়ে সমারসেট জিতে নেয় রোমাঞ্চকর ম্যাচটি। আর এ জয়ের নায়ক ইংল্যান্ডের সাবেক তারকা অধিনায়ক মাইকেল ভনের ছেলে আর্চি ভন।
বয়স এখনো ১৯ হয়নি আর্চির। বাবার দেখানো পথে হেঁটে ইংল্যান্ডের বয়সভিত্তিক জাতীয় দলে ডাক পেয়েছেন। গত জুলাইয়ে লিস্ট ‘এ’ এবং আগস্টে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ঘটেছে অভিষেক। পুরোদস্তুর ওপেনার তিনি। ডান হাতে অফস্পিনটাও করেন নিয়মিত। আর্চির জন্ম ২০০৫ সালের ৯ ডিসেম্বরে। এর ৭ মাস পর ২০০৬ সালের ৬ আগস্ট জাতীয় দলে অভিষেক ঘটেছিল সাকিব আল হাসানের।
ব্যাটে ফ্লপ হওয়া সাকিব অবশ্য পুষিয়ে দিয়েছেন বোলিংয়ে। ম্যাচে শিকার ধরেছেন ৯টি। কীর্তিটি দারুণ হলেও এ ম্যাচের হিসাবে যথেষ্ট নয়। কারণ ১৮ বছরের আর্চি প্রথম ইনিংসে ৬টি ও দ্বিতীয় ইনিংসে ৫টি মিলিয়ে ১১ শিকার ঝুলিতে ভরেছেন। তিনিই এখন প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে সমারসেটের হয়ে এক ম্যাচে কমপক্ষে ১০ উইকেট শিকারী সর্বকনিষ্ঠ (১৮ বছর ৯ মাস ৫ দিন) বোলার। আগের কীর্তিটি ১৯৫৩ সালে গড়েছিলেন ব্রায়ান অ্যান্থনি ল্যাংফোর্ড।
সেই সঙ্গে আর্চি দুই ইনিংসে খেলেন ৪৪ ও ৩ রানের ইনিংস। যেখানে সাকিব প্রথম ইনিংসে ১২ রান করলেও দ্বিতীয় দফায় রানের খাতাই খুলতে পারেননি। দ্বিতীয় ইনিংসে আর্চি আউট হন সাকিবের বলে। সাকিবও কাটা পড়েন আর্চির ঘূর্ণিতে। ম্যাচে সাকিবের বোলিং ফিগার ৬৩.২-৮-১৯৩-৯; আর্চির ৬৯-২২-১৪০-১১। বোলার আর্চি কেবল উইকেট নয় বাকি মানদণ্ডেও ছাপিয়ে গেছেন সাকিবকে। সমারসেটের হয়ে খেলা ইংল্যান্ডের জাতীয় টেস্ট দলের নিয়মিত স্পিনার জ্যাক লিচও চাপা পড়ে গেছেন আর্চির কীর্তির আড়ালে। ম্যাচে লিচও শিকার ধরেছেন সাকিবের সমান ৯টি।
ব্যাটিং না বোলিং অলরাউন্ডার, এমন প্রশ্নের উত্তরের আর্চি দিয়েছেন সোজাসাপ্টা জবাব, ‘কখনো ব্যাটসম্যান, কখনো বোলারের ভূমিকা পালন করতে হচ্ছে। আমি দুটিই উপভোগ করি।’ ভবিষ্যত সম্পর্কে উত্তরে আর্চি আরও দৃঢ়, ‘আমি আরও ধারাবাহিক হতে চাই, নিখাদ অলরাউন্ডার হতে চাই।’ আর্চির সমারসেট কোচ জেসন কেরও বিশ্বাস করেন এমনটা। করবেনেই বা না কেন, বিশ্বসেরা সাকিবকে যে ১৮ বছর বয়সেই টেক্কা দিয়ে ফেলেছেন আর্চি।