দূর দূরান্ত থেকে যারা চাঁদপুরের তাজা ইলিশ খেতে চান, তাদের কাছে ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে অনলাইনে ইলিশ কেনাকাটা। এতে এক দিকে তাজা ইলিশের স্বাদ নিতে পারছেন দেশের সব অঞ্চলের মানুষ, পাশাপাশি সৃষ্টি হচ্ছে অসংখ্য বেকার যুবক-যুবতীর কর্মসংস্থান।
কুয়েত প্রবাসীর স্ত্রী রেশমা আক্তার বলেন, ‘অনলাইনেই অর্ডার করি ইলিশ মাছ। বাজারে না গিয়েও তাজা ইলিশ বাসায় পৌঁছে যাওয়ায় পরিবারের সদস্যদের আবদার পূরণ করতে পারছি। অনলাইনে কেনাকাটায় অনেক সুবিধা যদি বিশ্বস্ত মাধ্যম হয়। ভোগান্তি ছাড়াই ঘরে চলে আসে পছন্দের পণ্য।’
ইলিশ কিনতে প্রতি মৌসুমে চাঁদপুরে আসেন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ। আর যাদের আসার সুযোগ নেই, তাদের ভরসা হয়ে উঠেছে অনলাইন মার্কেট।
তরুণ উদ্যোক্তা সজীব চন্দ্র দাস বলেন, ‘২০১৪ সালে চাঁদপুর মৎস্য ডিপ্লোমা ইনস্টিটিউট থেকে পড়াশোনা শেষ করে কোন চাকরি না পেয়ে ২০২০ সালে যুক্ত হই অনলাইনে ইলিশ বিক্রিতে। অল্প সময়ে ধরা দেয় সাফল্য। বর্তমানে মৌসুমে প্রায় কোটি টাকার ইলিশ বিক্রি করি।’
সজীব দাসের মতো অনেক তরুণ-তরুণী অনলাইনে ইলিশ বিক্রির মাধ্যমে নিজেদের সফল উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছেন। এই উদ্যোগে পিছিয়ে নেই বিভিন্ন কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীরাও। তবে অনলাইনে ইলিশ কিনতে গিয়ে চটকদার বিজ্ঞাপনের ফাঁদে পড়ে প্রতারণার শিকার হচ্ছে অনেক ক্রেতা। অনলাইনে সক্রিয় প্রতারক চক্রের অপতৎপরতায় ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে সম্ভাবনাময় এই খাত।
চাঁদপুর মৎস্য বণিক সমবায় সমিতির সভাপতি আব্দুল বারী মানিক জমাদার বলেন, ‘গত কয়েক বছর ধরে অনলাইনে ইলিশ বিক্রি ব্যাপক জনপ্রিয় হয়েছে উঠেছে। এতে করে বেকারদের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি ভালো মার্কেটিং হচ্ছে ইলিশের। একই সাথে ইলিশ বিক্রির নামে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র। সম্ভাবনাময় এই খাতের উদ্যোক্তাদের টিকিয়ে রাখতে প্রতারক চক্রকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাই।’
এ ব্যাপারে চাঁদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (রিভার) শ্রীমা চাকমা বলেন, ‘প্রতারক চক্রের সদস্যদের আইনের আওতায় আনতে কাজ করছে পুলিশ। পাশাপাশি অনলাইনে কেনাকাটায় ক্রেতাদের আরো সচেতন হওয়ার আহ্বান জানাই।’