বিভিন্ন দাবি আদায়ে গত দুই সপ্তাহ ধরে অব্যাহত শ্রমিক অসন্তোষের পর বিজিএমইএ আহ্বানে ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের হুঁশিয়ারিতে কর্মচাঞ্চল্য ফিরেছে আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে।
রোববার (১৫ সেপ্টম্বর) সকাল থেকেই তৈরি পোশাক শ্রমিকরা নিজ নিজ কারখানায় প্রবেশ করে কাজে যোগ দিয়েছেন। এখন পর্যন্ত শিল্পাঞ্চলের কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি এবং কোনো বিশৃঙ্খলার খবর পাওয়া যায়নি। তবে এখনও বেশকিছু কারখানা কর্তৃপক্ষের সাথে শ্রমিকদের দাবি দাওয়ার বিষয়ে সুরাহা না হওয়ায় বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ এর ১৩(১) ধারায় ১৮ টি কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (১২ সেপ্টেম্বর) এর সংখ্যা ছিলো ২১৯ টি। এর মধ্যে গতকাল শনিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) এসব কারখানার অধিকাংশই খুলে দেওয়া হয়েছে। আজও বন্ধ থাকা আরও ২৯ কারখানায় উৎপাদন শুরু হয়েছে। বর্তমানে শ্রম আইনের ১৩ (১) ধারায় বন্ধ রয়েছে জেনারেশন নেক্সট, সান সোয়েটার, মাসকট ফ্যাশন, পার্ল গার্মেন্টসসহ ১৮ টি কারখানা।
একইভাবে গত বৃহস্পতিবার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয় ১৩৩টি পোশাক কারখানায়। বিজিএমইএর আহ্বানে গতকাল শনিবার শিল্পাঞ্চলে কাজের পরিবেশ ফিরে আসায় এসব কারখানায় কাজে যোগ দেয় শ্রমিকরা। রবিবার এসব কারখানার মধ্যে দুটি কারখানার শ্রমিকরা সকালে কাজে যোগ দিলেও পরবর্তীতে কাজ বন্ধ করে বিক্ষোভ শুরু করলে কারখানা দুটিতে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
কারখানার মালিকপক্ষ জানায়, আজ রোববর (১৫ সেপ্টেম্বর) সকালে ৪ থেকে ৫টি কারখানায় শ্রমিক প্রবেশ করলেও বিভিন্ন দাবিতে উৎপাদন বন্ধ রাখেন তারা। পরে মালিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে তারাও কাজে যোগ দিয়ে উৎপাদন শুরু করেন।
শিল্প পুলিশ-১ এর পুলিশ সুপার মো. সারোয়ার আলম বলেন, রোববার সকাল থেকে শ্রমিকরা শান্তিপূর্নভাবে কাজে যোগ দেওয়ায় শিল্পাঞ্চলের পরিবেশ অনেকটাই স্বাভাবিক। ২০টি কারখানা বাদে সব পোশাক কারখানায় উৎপাদন শুরু হয়েছে। এরমধ্যে ১৮ টি কারখানা শ্রম আইনের ১৩ (১) ধারায় বন্ধ রয়েছে এবং বাকি দুটিতে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, রোববার দুপুর পর্যন্ত শিল্পাঞ্চলের কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং শিল্পাঞ্চলের নিরাপত্তায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা, অব্যাহত রয়েছে যৌথ বাহিনীর টহল কার্যক্রম।