তখন দলের দুর্দিন, ২০১০ সাল। মো. মাহফুজুল ইসলাম ভূঁইয়া মামুন নিজ এলাকা থেকে শুরু করেন ছাত্রদলের রাজনীতি। এরপর ২০১৪-১৫ সেশনে ভর্তি হন রাজধানীর খিলগাঁও মডেল কলেজে। সেখানে দায়িত্ব পান খিলগাঁও মডেল কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক হিসেবে। ১৪ বছরের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে ঈশ্বরগঞ্জ থানা, ঢাকার খিলগাঁও, পল্টন, রামপুরা, সবুজবাগ থানায় হয়েছেন ৩৭টি মামলার আসামি। তিন দফায় খেটেছেন ১১ মাস ১২ দিন জেল। হয়েছেন গুম ও হয়রানির শিকার। সর্বশেষ ২০২৩ সালের নভেম্বর মাসের ৭ তারিখে গুরুতর অসুস্থ বাবা জাহেদুল ইসলাম ভূঁইয়াকে লুকিয়ে বাড়িতে দেখতে এসেও ছাড় পাননি। ডিবি ও র্যাবের যৌথ অভিযানে সেদিন গ্রেপ্তার হন। সেবার ১২৩ দিন জেল খেটে জামিনে মুক্তি পেয়েও ফের গ্রেপ্তার আতঙ্কে পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন মামুন। শেখ হাসিনা সরকার পতনের পর অবসান ঘটে পালানোর।
গতকাল শনিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার আঠারবাড়ি ইউনিয়নের নিজ গ্রাম গলকুন্ডায় ফেরেন খিলগাঁও মডেল কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক ও ঢাকা মহানগর পূর্ব ছাত্রদলের কার্যনির্বাহীর সদস্য মো. মাহফুজুল ইসলাম ভূঁইয়া মামুন।
মামুনের গ্রামে ফেরার খবরে স্থানীয় ছাত্রদল, স্বেচ্চাসেবক দল ও বিএনপির অঙ্গ সংগঠনের হাজারো নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ তাকে দেখতে এবং ফুলেল শুভেচ্ছা জানাতে উপজেলা আঠারবাড়ি ইউনিয়নের ইরা এলপিজি ফিলিং স্টেশন চত্বরে জড়ো হন। সেখান থেকে নেতাকর্মীরা তাকে স্লোগানে স্লোগানে ফুলের মালা দিয়ে বরণ করে আনন্দ মিছিল করেন। মিছিলটি আঠারবাড়ি বাজারের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে গো-হাটা বাজারে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে সমাপনী বক্তব্য রাখেন মাহফুজুল ইসলাম ভূঁইয়া মামুন।
মামুন বলেন, ৩৭টির বেশি মামলায় জর্জরিত থাকার কারণে বিগত বছরগুলোতে কোনোদিন প্রকাশ্যে বাড়িতে আসতে পারিনি। গুরুতর অসুস্থ বাবাকে গোপনে দেখতে এসে সর্বশেষ আমি গ্রেপ্তার হয়ে ১২৩ দিন কারাগারে ছিলাম। আজ আমরা স্বাধীন, নতুন করে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর নিজ গ্রামে স্বাধীনভাবে ফিরতে আমি আনন্দিত।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন আঠারবাড়ি ইউনিয়ন ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম শুভ, সহসভাপতি মাহবুব আলম রনি, স্বেচ্চাসেবক দলের সদস্য সচিব পাবেল, যুগ্ম আহ্বায়ক সাইদুর রহমান, সাবেক ছাত্রদল নেতা সাইদুর রহমান, সোহাগী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সিনিয়র সহ সভাপতি মারুফ হোসেন, সহসভাপতি রাজিব রেজা প্রমুখ।