চট্টগ্রামে মধু পূর্ণিমা উৎসবের ব্যাপক প্রস্তুতি

চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে আগামী মঙ্গলবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের অন্যতম পবিত্র ধর্মীয় উৎসব শুভ মধু পূর্ণিমা উপলক্ষে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। এই ধর্মীয় উৎসব মহাসমারোহে ভাবগম্ভীর পরিবেশে উদ্‌যাপনের জন্য হাটহাজারী উপজেলার আওতাধীন আটটি বৌদ্ধ জনগোষ্ঠী অধ্যূষিত ১৪টি বৌদ্ধ বিহার তথা মন্দিরে দিনব্যাপী বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে ভোরে পবিত্র ত্রিপিটকের মঙ্গলবানী পাঠ, সমবেত বুদ্ধ বন্দনা, জাতীয়, ধর্মীয় ও স্ব স্ব সংগঠনের পতাকা উত্তোলন, বুদ্ধ পূজা, পঞ্চশীল ও উপসথ শীল গ্রহণ, ভিক্ষু সংঘের পিন্ডদান, উপসথ শীলধারীদের মধ্যাহ্নভোজ গ্রহণ, মধু পূর্ণিমার তাৎপর্য শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান, আলোক সজ্জা, বুদ্ধ কীর্তন, সন্ধ্যা কালীন প্রদীপ পূজা, দেশের শান্তি ও সমৃদ্ধি এবং জীব জগতের মঙ্গল কামনায় সমবেত প্রার্থনা। 

বৌদ্ধ ধর্মের প্রবক্তা গৌতম বুদ্ধ পারিলেয়্য বনে বর্ষা যাপন কালে একটি একাচারী হাতি প্রতিদিন ফল সংগ্রহ করে বুদ্ধকে দান করত। এ সময় বনের একটি বানর হস্তীরাজ কর্তৃক বুদ্ধকে সেবা করতে দেখে তারও বুদ্ধকে পূজা করার ইচ্ছা জাগে। ভাদ্র পূর্ণিমাতে সে একটি মৌচাক সংগ্রহ করে বুদ্ধকে দান করেন। মৌচাকে মৌমাছির ছানা ও ডিম থাকায় বুদ্ধ প্রথমে মধু পান করেন নি। বানর তা বুঝতে পেরে মৌচাকটি নিয়ে ছানা ও ডিম পরিষ্কার করে পুনরায় বুদ্ধকে দান করলে এবার বুদ্ধ মধু পান করেন। মধুপান করতে দেখে বানর খুশিতে, আনন্দে আত্মহারা হয়ে বৃক্ষ শাখা হতে বৃক্ষশাখায় লাফাতে লাগল। হঠাৎ অসাবধানতাবশত বৃক্ষের শাখা ভেঙ্গে বানর মাটিতে পড়ে গাছের গোড়ায় আঘাত প্রাপ্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করে। বুদ্ধকে মধুদান এবং বুদ্ধের প্রতি প্রসন্নচিত্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করার পর বানর তাবতিংস স্বর্গে ত্রিশ যোজন বিস্তৃত কনক বিমান ও সহস্র অপ্সরা লাভ করল। পারিলেয়া বনে হস্তিরাজ কর্তৃক ভগবান বুদ্ধের সেবাপ্রাপ্তি ও বানরের মধুদানের কারণে এ দিনটি বৌদ্ধদের কাছে স্মরণীয় ও আনন্দ-উৎসবমুখর পুণ্যময় একটি দিন।

এছাড়াও শুভ মধু পূর্ণিমা উপলক্ষে হাটহাজারী উপজেলা আওতাধীন পশ্চিম ধলই উদালিয়া শান্তি নিকেতন বৌদ্ধ বিহার, মির্জাপুর শান্তিধাম বিহার, মির্জাপুর গৌতমাশ্রম বিহার, বালুখালী জগৎ জোতি বৌদ্ধ বিহার, গুমানমর্দ্দন ধর্মচক্র বিহার, আরিয়া ওয়াংচা আন্তর্জাতিক বিদর্শন ভাবনা কেন্দ্র, গুমানমর্দ্দন সার্বজনীন নালন্দা বিহার,গুমানমর্দ্দন শান্তি বিহার, রুদ্রপুর ধর্মরত্ন বিহার, মীরেরখীল চন্দ্রপুর বেনুবন বিহার, জোবরা সুগত বিহার, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন বিশ্ব শান্তি প্যাগোডা, মধ্যম মার্দাশা সার্বজনীন শান্তি নিকেতন বৌদ্ধ বিহারে দিনব্যাপী পৃথক পৃথক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন হাটহাজারী বৌদ্ধ কল্যাণ পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অনুপম বড়ুয়া।