শিগগির আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠনের আশা চিফ প্রসিকিউটরের

এক সপ্তাহের মধ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. তাজুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আইন ও বিচার উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলের সঙ্গে কথা হয়েছে। সম্ভবত আগামী সপ্তাহে ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন হবে।

আজ রবিবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সুপ্রিম কোর্টে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। এর আগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আহতদের দেখতে ঢাকার সিএমএইচ (সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল) যান তাজুল ইসলাম। তিনি সেখানে আহতদের চিকিৎসার খোঁজ-খবর নেন এবং চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন। ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন।

অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম বলেন, ‘গত সপ্তাহে আইন উপদেষ্টার সঙ্গে আমাদের আলোচনা হয়েছে। আমরা দ্রুত সময়ের মধ্যে ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠনের দাবি জানিয়েছি। কারণ, পুনর্গঠন না হলে আদালতের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় অনেক আদেশ আমরা নিতে পারছি না। আদালতের আদেশ ছাড়া অনেক কাজ বন্ধ হয়ে আছে। আইন উপদেষ্টা আমাদের আশ্বস্ত করেছেন। সম্ভবত এক সপ্তাহের মধ্যে ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন হবে।’

ট্রাইব্যুনালে বিচারকাজ কবে শুরু হতে পারে, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আদালত গঠন, তদন্ত সংস্থা ও প্রসিকিউশনে পর্যাপ্ত লোকবল নিয়োগের আগে বিচারের বিষয়ে কোনো টাইম ফ্রেম নিয়ে মন্তব্য করা যাচ্ছে না।

তিনি বলেন, ‘আমরা তদন্ত সংস্থা ও প্রসিকিউশন প্রধানত যে সমস্ত বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছি, সেগুলো হলো লাইভ (তাজা) যে সমস্ত আলামত আছে সেগুলোকে যতদূর সম্ভব সংরক্ষণ করা এবং সেগুলোকে আমাদের তদন্ত সংস্থার কাছে জমা দেওয়া।’

তিনি বলেন, ‘আমরা হাসপাতাল কতৃর্পক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি যে, প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত যত রোগী তাদের কাছে এসেছেন যারা চিকিৎসা নিয়েছেন, মারা গিয়েছেন এবং যারা এখনো চিকিৎসা নিচ্ছেন, তাদের প্রত্যেকের ডাটা দিতে বলেছি। এছাড়া অস্ত্রোপাচার করে যেসব গুলি বের করা হয়েছে সেগুলো আলামত হিসেবে চেয়েছি। পরবর্তীতে তদন্ত সংস্থা আলামতগুলো জব্দ করে নিয়ে আসবে।’

তাজুল ইসলাম বলেন, ‘ছাত্র-জনতার গণঅভ্যূত্থানে যে অস্ত্র দিয়ে গুলি করা হয়েছে সেগুলো মারণাস্ত্র। এই মারণাস্ত্র পুলিশের কাছে আছে কি নেই তা সরকার তদন্ত করে বের করবে। কিন্তু প্রতিটি ভুক্তভোগী বলেছেন, পুলিশের কাছে চাইনিজ রাইফেল ছিল। চাইনিজ রাইফেল একটি মারণাস্ত্র। এখন প্রশ্ন উঠতে পারে পুলিশের কাছে চাইনিজ রাইফেল থাকার কথা? বাস্তবতা হলো পুলিশের কাছে চাইনিজ রাইফেল ছিল। পুলিশকে এটি দেওয়ার সিদ্ধান্ত কতদিন আগে, কে দিয়েছিল?’