বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার সরকারের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, আওয়ামী লীগ নেতা ও পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আরও পাঁচটি অভিযোগ দায়ের হয়েছে। যাতে শেখ হাসিনাসহ ২২৪ জনকে আসামি করা হয়েছে। আন্দোলনের সময় দেশের বিভিন্ন এলাকায় ছয় জনকে হত্যার অভিযোগে রবিবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর বরাবর এসব আবেদন করেন শহীদের স্বজনেরা।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম এ তথ্য নিশ্চিত করেন। ছাত্র- জনতার অভ্যুত্থানের মধ্যে গত ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগ করে দেশ ছাড়েন শেখ হাসিনা। তার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন ও তদন্ত সংস্থায় গতকাল পর্যন্ত ১৯টি অভিযোগ দায়ের হলো।
যে পাঁচটি অভিযোগ দায়ের হয়েছে:
গত ২০ জুলাই সকাল ১১ টায় ময়মনসিংহ- কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের উপর কলেজ ছাত্র শহীদ নুরে আলম সিদ্দিকী রাকিব ও জুবায়েরকে গুলি করে হত্যার অভিযোগে শেখ হাসিনাসহ ৬৫ জনকে আসামি করে অভিযোগ দায়ের করেছেন রাকিবের পিতা আব্দুল হালিম ও জুবায়েরের পিতা আনোয়ার উদ্দিন।
গত ১৯ জুলাই সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় বাড্ডা ব্রাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে একাদশ শ্রেণীর ছাত্র মো. মারুফ হোসেনকে (১৯) গুলি করে হত্যার অভিযোগে মারুফের পিতা মো. ইদ্রিস শেখ হাসিনাসহ ২৮ জনকে আসামি করে একটি অভিযোগ দায়ের করেন।
গত ১৯ জুলাই বিকাল ৫ টায়, উত্তরা আব্দুল্লাপুর এলাকায় এইচ এস সি পরীক্ষার্থী ফয়সাল সরকারকে গুলি করে হত্যার অভিযোগে শেখ হাসিনাসহ অজ্ঞাতদের আসামি করে প্রসিকিউশনে একটি অভিযোগ দায়ের করেন নিহতের পিতা শফিকুল ইসলাম সরকার।
একই তারিখে বিকাল তিনটায় মিরপুর ১০ নং গোল চত্বর এলাকায় দশম শ্রেণির ছাত্র মাহফুজুর রহমানকে (১৫) গুলি করে হত্যার অভিযোগে তার পিতা আব্দুল মান্নান শেখ হাসিনাসহ ৭৬ জনকে আসামি করে একটি অভিযোগ দেন।
গত ৫ আগস্ট বিকাল ৫ টায় উত্তরা (আজমপুর ফুটওভার ব্রিজের পূর্ব পাশে) সপ্তম শ্রেণীর ছাত্র সামিউ আমান নুরকে (১৩) গুলি করে হত্যার অভিযোগে নিহতের পিতা মো. আমানুল্লাহ্ প্রসিকিউশন শাখায় একটি অভিযোগ করেন যাতে শেখ হাসিনাসহ ৫৮ জনকে আসামি করা হয়েছে।