রাষ্ট্রীয় মোবাইল ফোন অপারেটর টেলিটকের কাছে বকেয়া পাওনা ১৩ কোটি টাকা দ্রুত পরিশোধের দাবি করেছেন প্রতিষ্ঠানটির ডিলাররা। পাশাপাশি দুর্নীতিগ্রস্ত প্রশাসন সংস্কার করে টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেডকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করাসহ ১৪ দফা দাবি জানিয়েছেন তারা।
গতকাল রবিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনী মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে টেলিটক ডিলারস অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশের (টিডিএবি) পক্ষ থেকে এসব দাবি জানানো হয়।
লিখিত বক্তব্যে টিডিএবির সমন্বয়ক রেজাউল করিম জাহাঙ্গীর বলেন, টেলিটক প্রথমে প্রত্যেক ডিলারের কাছ থেকে জামানতস্বরূপ ১ লাখ টাকা করে নেয় এবং পরে পল্লী বিদ্যুৎ/টেলিচার্জ বাবদ সারা দেশের ডিলারদের কাছ থেকে ২০১৯ সালে ডিলারপ্রতি ৩ থেকে ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত সিকিউরিটি ডিপোজিট নেয়। কিন্তু ডিলারদের মাসিক এসআর, সুপারভাইজার এবং বিপিদের বেতন বাবদ কমপেনসেশনের টাকা ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে সম্পূর্ণরূপে বন্ধ রেখেছে। চলতি মাস পর্যন্ত বকেয়ার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৩ কোটি টাকা।
তিনি বলেন, অনেক ডিলার তাদের স্বেচ্ছাচারিতা সহ্য করতে না পেরে ব্যবসা ছেড়ে চলে গেছেন বা অন্যায় কাজের প্রতিবাদ করায় অনেক ডিলারের সঙ্গে এ ম্যানেজমেন্ট ব্যবসা বন্ধ করে দিয়েছেন। টেলিটক থেকে অব্যাহতি নেওয়া ডিলারদের জমা করা জামানতের টাকা, বকেয়া কমপেনসেশন, বিভিন্ন সময় পাওনা সিম কমিশনের টাকা চাওয়া হলে টেলিটক ম্যানেজমেন্ট অব্যাহতি নেওয়া ডিলারদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন।
এসব সমস্যা নিয়ে সর্বশেষ গত ২১ আগস্ট টেলিটকের এমডি ও জিএমের সঙ্গে আলোচনা করা হলেও তারা কোনো আশানুরূপ সমাধান দিতে পারেননি বলে উল্লেখ করেন তিনি।
রেজাউল করিম জাহাঙ্গীর অভিযোগ করেন, টেলিটকের বর্তমান সেলস অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন ম্যানেজমেন্ট গ্রুপের একমাত্র কাজ হলো টেলিটককে একটি লোকসানি প্রতিষ্ঠান হিসেবে দাঁড় করিয়ে তৃতীয়পক্ষের কাছে বিক্রির ব্যবস্থা করে বড় আকারের কমিশন-বাণিজ্য করা। এরই ধারাবাহিকতায় মার্কেটে সিমের চাহিদা থাকলেও চাহিদা অনুযায়ী ডিলারদের কাছে দেওয়া হয় না। নতুন সিম সক্রিয় করা এবং প্রথম রিচার্জ করতে অন্তত ২০ মিনিট সময় লাগে। যাতে করে রিটেলাররা টেলিটকের সিম বিক্রয় করতে অনীহা প্রকাশ করেন।
ডিলারদের অন্য দাবির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ডিলারদের থেকে নেওয়া পল্লী বিদ্যুৎ বা টেলিচার্জ বাবদ অতিরিক্ত সিকিউরিটি ডিপোজিট সাড়ে ৭ কোটি টাকা ফেরত দেওয়া; প্যাকেজের ইউজেস কমিশন পরিশোধ করা; বিগত সরকারের আশীর্বাদপুষ্ট সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংস্কার এবং বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশনস কোম্পানি লিমিটেডের (বিটিসিএল) কর্মকর্তাদের টেলিটকে নিয়োগ দেওয়া থেকে বিরত রাখা; টেলি পে অ্যাপস ও সিম অ্যাকটিভেশন অ্যাপ আপগ্রেড করা ইত্যাদি।