ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে গত ৫ আগস্ট পদত্যাগ করে দেশ ছাড়েন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। পতনের পর পরই তার দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা দেওয়া হচ্ছে। সেসব মামলায় এখন পর্যন্ত আওয়ামী লীগের দুই ডজনেরও বেশি মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, উপদেষ্টা এবং শীর্ষ নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ সদরদপ্তর জানিয়েছে, ৫ আগস্টের পর থেকে রোববার (১৫ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত সারাদেশে ১ হাজার ১৩টি মামলা হয়েছে। ওইদিন পর্যন্ত শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ১৭৭টি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে, যার মধ্যে ১৫৭টি হত্যা মামলা। এসব মামলায় শেখ হাসিনার সঙ্গে আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী, এমপি ও বিভিন্ন নেতাকর্মীও আসামি হয়েছেন। তবে এই মামলার সংখ্যা ক্রমেই দীর্ঘ হচ্ছে।
এরই মধ্যে সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের কয়েকজন মন্ত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন- সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, শেখ হাসিনার জ্বালানি, খনিজসম্পদ ও বিদ্যুৎ-বিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী, সাবেক জনপ্রশাসনমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন, বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, সাবেক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি।
এছাড়াও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সাবেক প্রতিমন্ত্রী এবি তাজুল ইসলাম, সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, সাবেক পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, সাবেক পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সর্বশেষ সোমবার রাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন সাবেক রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন। একইদিন গ্রেপ্তার করা হয় একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির উপদেষ্টামণ্ডলীর সভাপতি শাহরিয়ার কবিরকে।
মন্ত্রী-এমপি ছাড়াও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠরা প্রভাবশালীরাও গ্রেপ্তার হয়েছেন। তাদের মধ্যে আলোচিত সেনা কর্মকর্তা ও ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টার এনটিএমসির সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান, সাবেক বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, চট্টগ্রাম বন্দরের সদ্য সাবেক চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ সোহায়েলকেও আটক করা হয়েছে।
এসব মামলাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছে আওয়ামী লীগ। তবে আইজিপি ময়নুল ইসলাম জানান, আমরা মামলাগুলো ক্লোজ মনিটরিং করছি। রাজনৈতিক নেতা, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, পুলিশ অফিসারসহ যাদের আসামি করা হয়েছে, তাদের ব্যাপারে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তথ্য ও ভিডিওর ভিত্তিতে নিশ্চিত হয়ে অপরাধীদের ধরব এবং কেউ যেন হয়রানির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করব।