পুলিশের গুলিতে এসআইয়ের ছেলে নিহত, ওসি গ্রেপ্তার

ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় যাত্রাবাড়ীতে পুলিশের গুলিতে এক উপপরিদর্শকের (এসআই) ছেলে নিহত হওয়ার ঘটনায় যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ওসি আবুল হাসানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত সোমবার তাকে কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে গ্রেপ্তারের পর ঢাকায় আনা হয়েছে। আবুল হাসান সম্প্রতি টেকনাফে ১৬ আমর্ড পুলিশ ব্যাটালিয়নে (এপিবিএন) যোগ দিয়েছিলেন। রাজধানীর উত্তরা এলাকায় আন্দোলনকারীদের ওপর গুলিবর্ষণের অভিযোগে গতকাল মঙ্গলবার দেলোয়ার হোসেন রুবেল নামে একজন যুবলীগ কর্মী গ্রেপ্তার হয়েছেন।

কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রহমত উল্লাহ সাংবাদিকদের বলেন, ‘যাত্রাবাড়ীতে কলেজছাত্র ইমাম হাসান তাইম হত্যা মামলায় সাবেক ওসি আবুল হাসানকে গ্রেপ্তারের পর জেলা পুলিশের হেফাজতে ছিলেন। গতকাল ভোরে তাকে আমরা ডিএমপির কাছে হস্তান্তর করেছি। এ মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সেই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসে তাকে নিয়ে গেছেন।’

গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত তাইম রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে কর্মরত উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ময়নাল হোসেন ভূঁইয়ার ছেলে। ইমাম হাসান তাইম। গত ২০ আগস্ট ওই শিক্ষার্থীর মা পারভীন আক্তার বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেন। এতে যাত্রাবাড়ী থানার তৎকালীন ওসি আবুল হাসান, ওয়ারী বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন, এডিসি শাকিল মোহাম্মদ শামীম ও এসি তানজিল আহমেদসহ পাঁচ পুলিশ কর্মকর্তাকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানায়, গত ২০ জুলাই দুপুরে বন্ধুর সঙ্গে যাত্রাবাড়ীর কাজলা এলাকায় চা খেতে বের হন তাইম। একপর্যায়ে পুলিশের গুলিতে নিহত হন।

এদিকে উত্তরায় আন্দোলনকারীদের ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনায় র‌্যাব গাজীপুরের টঙ্গী এলাকা থেকে যুবলীগ কর্মী রুবেলকে গ্রেপ্তার করেছেন।

গতকাল র‌্যাবের জনসংযোগ দপ্তর থেকে দেওয়া সংবাদ বিজ্ঞপ্ততে বলা হয়, গত ৩ আগস্ট রাজধানীর উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টরে ছাত্র-জনতার ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মামলার এজাহারভুক্ত ৪৫ নম্বর আসামি ও পিস্তল দিয়ে গুলিবর্ষণকারী রুবেলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

র‌্যাব জানায়, রুবেল যুবলীগ কর্মী। তিনি ভালো পদের আশায় পিস্তল দিয়ে ছাত্র-জনতার ওপর গুলিবর্ষণ করেন।