তাইওয়ানের আকাশসীমা এবং সমুদ্রসীমার কাছে চীনের সামরিক তৎপরতা দিন দিন বাড়ছে। গত শনিবার সকাল ৬টা (স্থানীয় সময়) থেকে রবিবার সকাল ৬টা (স্থানীয় সময়) পর্যন্ত তাইওয়ান ভূখণ্ডের চারপাশে সাতটি চীনা বিমান, ছয়টি নৌযান এবং একটি সরকারি জাহাজ মহড়া দিয়েছে বলে দাবি তাইওয়ানের। এএনআইয়ের বরাত দিয়ে এই খবর জানিয়েছে দ্য প্রিন্ট।
তাইওয়ানের জাতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় (এমএনডি) অনুসারে, পিপলস লিবারেশন আর্মির (পিএলএ) দুটি বিমান তাইওয়ান প্রণালীর মধ্যরেখা অতিক্রম করে তাইওয়ানের উত্তর, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল এবং পূর্বাঞ্চলীয় এয়ার ডিফেন্স আইডেন্টিফিকেশন জোন (এডিআইজেড) প্রবেশ করে।
এমন পরিস্থিতিতে তাইওয়ান বলেছে, তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছে এবং সে অনুযায়ী প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।
তাইওয়ানের জাতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় রবিবার এক্সে এক বার্তায় বলেছে, সকাল ৬টা পর্যন্ত তাইওয়ানের আশেপাশে পিপলস লিবারেশন আর্মির ৭ বিমান, ৬ জাহাজ এবং একটি অফিসিয়াল জাহাজ সনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ২টি বিমান মধ্যরেখা অতিক্রম করে তাইওয়ানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় এয়ার ডিফেন্স আইডেন্টিফিকেশন জোনে প্রবেশ করেছে। আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছি এবং সেই অনুযায়ী সাড়া দিয়েছি।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বেইজিংয়ের সামরিক তৎপরতায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে চীনের এই সামরিক তৎপরতা। তাইওয়ানের এয়ার ডিফেন্স আইডেন্টিফিকেশন জোনে নিয়মিত বিমান ও নৌ-আক্রমণ এবং দ্বীপের কাছে সামরিক মহড়াসহ তাইওয়ানের কাছে চীন তার সামরিক তৎপরতা বাড়িয়ে চলেছে।
চীনের সাথে ১৯৭৮ সালে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠার চুক্তির শর্ত হিসাবে আমেরিকা "এক চীন" নীতি মেনে নেয় এবং তাইওয়ান থেকে তাদের সামরিক ঘাঁটি প্রত্যাহার করে নেয়। চীনের সাথে আলাপ আলোচনা চলার সময়েই অর্থাৎ ১৯৭৭ সালের মধ্যে তাইওয়ান থেকে সব মার্কিন সৈন্য চলে যায়।
কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সামরিক শক্তি বৃদ্ধিতে চীনের প্রচেষ্টায় আমেরিকা এবং পূর্ব এশিয়ার তাদের প্রধান মিত্র জাপান উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে। তারা ভয় পাচ্ছে, প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকায় সামরিক প্রভাব প্রসারে চীন তাইওয়ানে প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করতে পারে।
১৯৪৯ সাল থেকে তাইওয়ান স্বাধীনভাবে শাসিত হয়ে আসছে। তবুও চীন তাইওয়ানকে তার ভূখণ্ডের অংশ বলে মনে করে এবং প্রয়োজনে বলপ্রয়োগ করে শেষ পর্যন্ত পুনঃএকত্রীকরণের উপর জোর দিচ্ছে।
২০২০ সালের সেপ্টেম্বর মাস থেকে চীন তাইওয়ানের কাছাকাছি সামরিক বিমান এবং নৌযানের সংখ্যা বৃদ্ধি করে গ্রে জোন (শান্তি এবং যুদ্ধের মধ্যবর্তী স্থান) কৌশলগুলোর অপব্যবহার করছে।
সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি (সিএনএ) জানিয়েছে, জুলাইয়ের শুরুতে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে জাতিসংঘের এক চীন নীতি প্রস্তাবের ভুল ব্যাখ্যা করার জন্য চীনা সরকারকে অভিযুক্ত করেছিলেন। তবে বেইজিংয়ের দাবি, জাতিসংঘের প্রস্তাবটি তার এক চীন নীতিকে সমর্থন করেছে, যা বোঝায় যে বিশ্বে কেবল একটি চীন রয়েছে এবং তাইওয়ান চীনের অংশ।