টেকনাফের কাছে মিয়ানমারের লালদিয়া চরে তীব্র সংঘাত

কক্সবাজারের টেকনাফের নাফ নদের ওপারে মিয়ানমারের লালদিয়া চরের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে গতকাল বুধবার দিনভর তীব্র সংঘাত চলেছে। টেকনাফের জালিয়ারদিয়ার পুব পাশের লালদিয়া চরটি মিয়ানমারের জলসীমায়।

গতকাল দুপুর ১২টা থেকে শুরু হওয়া গোলাগুলি সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত চলেছে। দুপক্ষের গোলাগুলিতে গুলি এসে পড়েছে টেকনাফ স্থলবন্দর কার্যালয়ে, একটি পণ্যবাহী ট্রাকে ও স্থানীয় এক ব্যক্তির বসতঘরে। ফলে টেকনাফ স্থলবন্দরসহ দমদমিয়া এলাকার স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বন্দর কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় লোকজন এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মোহাম্মদ আলী জানিয়েছেন, ‘বুধবার দুপুরে গোলাগুলির শব্দে কেঁপে ওঠে দমদমিয়া এলাকা ও বন্দর এলাকা। গুলি দমদমিয়ার আয়ুব নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে এসে পড়েছে। বাড়িটির জানালা ও ঘরের ভেতরের একটি আলমারি ভেঙে গেছে। বন্দরেও কয়েকটি গুলি এসে পড়েছে।’

স্থলবন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ইউনাইটেড ল্যান্ড পোর্ট লিমিটেড টেকনাফের ম্যানেজার সৈয়দ মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘দুপুরে কার্যালয়ে অবস্থান করার সময় গোলাগুলির শব্দ শুনতে পাই। কার্যালয়ের জানালা গুলিবিদ্ধ হয়েছে। জানালা ভেঙে গেছে। ওই সময় বন্দরে পণ্যবোঝাই একটি ট্রাকের কাচে গুলি লেগে ভেঙে গেছে।’

টেকনাফ সদর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য নজির আহমদ বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশন (আরএসও) লালদিয়ায় অবস্থান করছিল। তাদের লালদিয়া ছেড়ে যাওয়ার জন্য সময় বেঁধে দেওয়ায় হয়। কিন্তু আরএসও লালদিয়ার নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে না দেওয়ায় আরাকান আর্মি আবার হামলা চালিয়েছে। গোলাগুলিতে উভয়পক্ষে ব্যাপক হতাহতের খবর পাওয়া যাচ্ছে। সীমান্তের স্থলবন্দর-সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দারা আতঙ্কে রয়েছেন।’

টেকনাফের ইউএনও মো. আদনান চৌধুরী জানিয়েছেন, ‘দুপুর ১২টার দিকে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে ছোড়া কয়েকটি গুলি টেকনাফ স্থলবন্দরের ভবনে আঘাত হানে। ভবনটির দরজা-জানালা ও কাচ ভেঙেছে। তবে ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি।’

এ ব্যাপারে কথা বলার জন্য বিজিবির টেকনাফ ২ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মহিউদ্দীন আহমেদের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও সাড়া মেলেনি।