চাহিদা অনুযায়ী পণ্য বুঝে না পেলেও ঠিকই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ১ কোটি ৩৭ লাখ ৮৭ হাজার টাকার বিল পরিশোধ করে দিয়েছেন রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের তিন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধানে সরকারি অর্থের লুটপাটের এ তথ্য বেরিয়ে এসেছে।
এরপর দুর্নীতি দমনের দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা রেলওয়ের ওই তিন কর্মকর্তা ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারীর বিরুদ্ধে মামলা করেছে। গতকাল বুধবার দুদকের উপপরিচালক মো. আহসানুল কবীর বাদী হয়ে সংস্থার চট্টগ্রাম কার্যালয়ে মামলাটি করেন।
দুদকের চট্টগ্রাম জেলার সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. নাজমুচ্ছায়াদাত মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার আসামিরা হলেন রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক ফরিদ আহমেদ, সাবেক অতিরিক্ত প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক মুহাম্মদ রাশেদুল আমিন ও প্রধান যন্ত্র প্রকৌশলী তাপস কুমার দাস, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স ট্রেড অ্যান্ড টেকনোলজির স্বত্বাধিকারী এমএ শুক্কুর। মুহাম্মদ রাশেদুল আমিন বর্তমানে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষে (বেজা) উপসচিব হিসেবে কর্মরত।
এজাহারে বলা হয়েছে, দরপত্র কমিটির সদস্যরা ও ঠিকাদার পরস্পর যোগসাজশে ৮৫ টন মালামাল সরবরাহ না করে সরকারের ১ কোটি ৩৭ লাখ ৮৭ হাজার টাকা আত্মসাতের সত্যতা প্রাথমিক অনুসন্ধানে প্রমাণ হয়েছে। এজন্য রেলের তিন কর্মকর্তা ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
এজাহারের তথ্য অনুযায়ী, রেলওয়ের পক্ষ থেকে ২০২১ সালের ২৩ মার্চ ১৪৬ দশমিক ৯২৭ টন পিগ আয়রন কেনার চাহিদা দেওয়া হয় প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রকের দপ্তরে। তবে বাজেট স্বল্পতার কারণে ৮৫ টন কেনার সিদ্ধান্ত হয়। প্রতি টনের দাম নির্ধারণ করা হয় ২ লাখ ৩৪ হাজার ১০০ টাকা। দরপত্র বিজ্ঞপ্তি, ফরম জমা ও মূল্যায়নসহ নানা আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষ করে ২০২৩ সালের ৮ আগস্ট পিগ আয়রন কেনার জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি হয়। সর্বনিম্ন দরদাতা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রতি টন ১ লাখ ৬২ হাজার ২০০ টাকা দরে সরবরাহ করে, যা প্রাক্কলিত ব্যয়ের চেয়ে ৩১ শতাংশ কম। সাধারণত প্রাক্কলিত ব্যয়ের সঙ্গে মালামাল ক্রয়ের পার্থক্য ১০ শতাংশ বেশি বা কম হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স ট্রেড অ্যান্ড টেকনোলজি ৮৫ টনের জন্য দর দেয় ১ কোটি ৩৭ লাখ ৮৭ হাজার টাকা। প্রাক্কলিত দর অনুযায়ী ৮৫ টন পিগ আয়রনের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ১ কোটি ৯৮ লাখ ৯৮ হাজার ৫০০ টাকা। দাম যাতে ২ কোটি টাকার ওপরে না যায়, সেজন্য ৮৫ টন কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কেননা ২ কোটি টাকার বেশি হলে তখন আর্থিক ক্ষমতা অনুযায়ী মন্ত্রীর কাছ থেকে দরপত্র অনুমোদনের প্রয়োজন হয়। ২ কোটি টাকার কম হলে মহাপরিচালক অনুমোদন দিতে পারেন।