২৮ দিন ধরে পানিবন্দি

পরিবার নিয়ে মাথা গোঁজার ঠাঁই খুঁজছেন সালেহা

গত ২৮ দিন ধরে পানিবন্দি সালেহা বেগমের পরিবার। উঠানে হাঁটুর উপরে আর রাস্তায় কোমর সমান পানি। ঘরে এখনো টাকনুর উপরে পানি। পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে মাথা গোঁজার ঠাঁই একমাত্র ঘরটি একদিকে দেবে কাত হয়ে যাচ্ছে। চুলা, টয়লেট সবই পানির নিচে।

উপায় না দেখে পরিবারের ৬ সদস্যকে নিয়ে উঠেছেন আরেক অসহায় আত্মীয়ের বাড়িতে। এ করুণ চিত্র কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার উত্তরদা ইউনিয়নের রামপুর মধ্যপাড়া বেপারী বাড়ির বানভাসি বিধবা সালেহা বেগমের (৫৫)।

জানা গেছে, মায়ের দেওয়া এক শতক জায়গায় ঘর তুলে বসবাস করতেন সালেহা। একমাত্র ছেলে শাহাদাত হোসেনের বয়স যখন ২ বছর তখন তার স্বামী রফিকুল ইসলাম মারা যান। একমাত্র সন্তান বড় হলে বিয়ে দেন পার্শ্ববর্তী গোবিন্দপুর ইউনিয়নের মোহাম্মদপুর গ্রামে। ছেলের শ্বশুর নেই, শাশুড়িও প্রতিবন্ধী। দরিদ্র পরিবার।

তিন নাতি-নাতনি, বউ-ছেলে নিয়ে তাদের জীর্ণশীর্ণ ঘরেই নিয়েছেন আশ্রয়। ছেলের মামা শ্বশুরদের সহযোগিতায় কোনোমতে চলছে সংসার। 

সালেহা বেগম জানান, বন্যার শুরুতে প্রায় এক সপ্তাহ ঘরেই ছিলাম। সরকারি-বেসরকারি ত্রাণ বা কোনো ধরনের সহযোগিতা পাইনি। মাথা গোঁজার ঠাঁই একমাত্র ঘরটি হেলে গেছে। খুঁটিগুলোতে ফাটল ধরেছে। আবার কোনোটি ভেঙেও পড়ছে। ২৮ দিন ধরে পানিবন্দি হয়ে আছি। অনেক কষ্ট পাচ্ছি। এ সময় তিনি একটি ঘরের জন্য সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতা কামনা করেন।

সালেহা বেগমের ছেলে শাহাদাত হোসেন জানান, অটোরিকশা চালিয়ে সাড়ে চারশ-পাঁচশ টাকা আয় হত। মালিকের জমা দিতে হয় সাড়ে তিনশ টাকা। বাকি এক-দেড়শ টাকায় সংসারের কিছু্ই হয় না। আর এখন ভাড়াও তেমন নেই। বর্তমানে মালিকের জমাও উঠে না। এজন্য বেকার বসে আছি।

সালেহার ছেলের বউ সুমি আক্তার জানান, তিন সন্তান, স্বামী-শাশুড়ি নিয়ে বড় কষ্টে আছি। বড় মেয়ে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ে। ছোট ছোট ছেলে-মেয়েদের নিয়ে বড় দুশ্চিন্তা হয়। একমাত্র ঘরটিও হেলে পড়ছে। সমাজের বিত্তবানরা এগিয়ে এলে আমাদের মাথা গোঁজার ঠাঁই হবে।