নামাজের গুরুত্বপূর্ণ ফরজ সিজদা। সিজদা বান্দাকে মহান আল্লাহর খুবই কাছাকাছি করে। নামাজের প্রতি রাকাতে দুটি করে সিজদা দিতে হয়। সিজদার রয়েছে বিশেষ ফজিলত ও উপকার। সিজদা যেমনিভাবে বান্দাকে মহান আল্লহর কাছাকাছি করে, তেমনি পরকালে জান্নাত লাভেও সহায়ক হয়।
সিজদার উপকার ও ফজিলত সম্পর্কে হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, মাদান ইবনে আবু তালহা আল ইয়ামিরি বলেন, আমি হজরত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আজাদকৃত গোলাম সাওবান (রা.)-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলাম। আমি বললাম, আমাকে এমন একটি কাজের কথা বলে দিন, যা করলে মহান আল্লাহ আমাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। আমি জানতে চাওয়ার পর তিনি চুপ করে থাকলেন। আমি আবার তাকে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি এবারও চুপ করে থাকলেন। তৃতীয়বার আমি তাকে জিজ্ঞেস করার পর তিনি বললেন, তুমি মহান আল্লাহর জন্য অবশ্যই বেশি বেশি সিজদা করবে। কারণ তুমি যখনই মহান আল্লাহর জন্য সিজদা করবে, মহান আল্লাহ সেটার বিনিময়ে তোমার মর্যাদা এক ধাপ বৃদ্ধি করে দেবেন এবং তোমার একটি গুনাহ মাফ করে দেবেন। (সহিহ মুসলিম)
অন্য হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, রবিয়া ইবনে কাবা আল আসলামি (রা.) বলেন, আমি হজরত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সঙ্গে রাতে ছিলাম। আমি তার অজুর পানি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিস এনে দিতাম। তিনি বললেন, কিছু চাও। আমি বললাম, জান্নাতে আপনার সাহচর্য প্রার্থনা করছি। তিনি বললেন, এ ছাড়া আরও কিছু কি চাইবে? আমি বললাম, এটাই আমার আবেদন। তিনি বললেন, তাহলে তুমি অধিক পরিমাণে সিজদা করে তোমার নিজের স্বার্থেই আমাকে সাহায্য করো। (সহিহ মুসলিম)
অন্য হাদিসে রাসুল (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি মহান আল্লাহর জন্য একটি সিজদা করে, আল্লাহ তার জন্য একটি নেকি লেখেন, তার একটি পাপ দূর করে দেন এবং তার মর্যাদার স্তর একটি বৃদ্ধি করে দেন। অতএব তোমরা বেশি বেশি সিজদা করো। (সুনানে ইবনে মাজাহ) রাসুল (সা.) আরও বলেছেন, কেয়ামতের দিন তিনি ইমানদারদের চিনবেন তাদের সিজদার স্থান ও অজুর অঙ্গগুলোর ঔজ্জ্বল্য দেখে। (মুসনাদে আহমাদ)
হাদিসে আরও বর্ণিত হয়েছে, আল্লাহ জাহান্নামবাসীদের মধ্য থেকে কিছু লোকের ওপরে অনুগ্রহ করবেন এবং ফেরেশতাদের বলবেন, যাও ওইসব লোকদের বের করে নিয়ে এসো, যারা আল্লাহর ইবাদত করেছে। অতঃপর ফেরেশতারা তাদের সিজদার চিহ্ন দেখে চিনে নেবেন এবং বের করে আনবেন। বনি আদমের পুরো শরীর আগুনে খেয়ে নেবে, সিজদার চিহ্ন ছাড়া। কারণ মহান আল্লাহ জাহান্নামের ওপরে হারাম করেছেন সিজদার চিহ্ন খেয়ে ফেলতে। (মিশকাতুল মাসাবিহ)