ক্ষতিপূরণের ১ কোটি ১৭ লাখ টাকা আত্মসাৎ

জালিয়াতি ও প্রতারণার মাধ্যমে সরকারি প্রকল্পের জন্য অধিগ্রহণ করা জমির ক্ষতিপূরণের ১ কোটি ১৭ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের ভূমি অধিগ্রহণ শাখার চারজন সার্ভেয়ারসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ দায়ের হয়েছে। গত বুধবার চট্টগ্রামের চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অভিযোগটি দায়ের করেন ভুক্তভোগীর পক্ষের আইনজীবী মো. জসিম উদ্দিন।

আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) নির্দেশ দিয়েছেন। মামলার আসামিরা হলেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের ভূমি অধিগ্রহণ শাখার (এলএ) সার্ভেয়ার মো. আবদুল মোমেন, মো. রফিকুল ইসলাম ও মাহবুব হাসান দীপু। এ ছাড়া চান্দগাঁও থানাধীন ইয়াছিন হাজির বাড়ির শেখ আহমদের ছেলে রাশেদুল ইসলাম, বাঁশখালী দক্ষিণ জলদী এলাকার শাহ আলমের ছেলে মো. ইদ্রিচ প্রকাশ বাবুল। মামলার আর্জি সূত্রে জানা যায়, নগরের পূর্ব ষোলশহর মৌজার অধীন বিএস ১৪১৪ নং খতিয়ানের ১৪০২ দাগের শূন্য দশমিক ৬৩৬২ একর ভূমির আন্দর শূন্য দশমিক ৩৭৫০ একর জমি ২৬/২০২০-২০২১ এলএ মামলা মূলে অধিগ্রহণ করে সরকার। নগরের বহদ্দারহাট বারৈইপাড়া থেকে কর্ণফুলী নদী পর্যন্ত খাল খননের কাজ প্রকল্পের জন্য এ জমি অধিগ্রহণ করা হয়। ক্রয় সূত্রে বিএস জরিপের ১৪০২ ও ১৪০৫ দাগে মোট শূন্য দশমিক ৭৫০ একর জমির মালিক ছিলেন মৃত হাজী নুর আহমদের দুই ছেলে পেয়ার মোহাম্মদ ও খায়ের মোহাম্মদ। পরে দুই সহোদরের নামে নামজারি খতিয়ান (১৪১৪/৪) সৃজন হয়। ২০০৬ সালের ১৩ এপ্রিল ১০৪৭ নম্বর সাফ কবলা মূলে উক্ত বিএস দাগে (১৪০২) শূন্য দশমিক ৭৫০ একর জমির মালিক হন বাদীর মক্কেল আলহাজ শেখ আহমদের ছেলে আবুল কালাম আজাদ, মোহাম্মদ ফরহাদ ও মোহাম্মদ রাশেদ। পরে তাদের নামে ওই জমির নামজারি খতিয়ান (১৪১৪/৪/২) সৃজন হয়।

বাদীর অভিযোগ, তার মক্কেলকে (আবুল কালাম আজাদ) ২০১০ সালের ১ এপ্রিল বিএস ১৪০২ দাগের শূন্য দশমিক ৫০০ একর জমির আমমোক্তারনামা দলিল দেন মোহাম্মদ ফরহাদ ও মোহাম্মদ রাশেদ। ভূমি অধিগ্রহণের ৮ ধারার নোটিস পাওয়ার পর বাদীর মক্কেল ও তার দুই ভাই চলতি বছর গত ১৪ জানুয়ারি ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তার দপ্তরে যান। সেখানে গিয়ে ৩০০ টাকার নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে প্রকল্পের জন্য প্রস্তাবিত জমির আমমোক্তারনামা দলিল মূলে আবুল কালাম আজাদকে মালিক দখলকার হিসেবে পুনরায় ক্ষমতা প্রদান করেন ফরহাদ ও রাশেদ।

বাদী জসিম উদ্দিনের অভিযোগ, ইতিপূর্বে আপন ভাইকে (আবুল কালাম আজাদ) ফরহাদ ও রাশেদ প্রস্তাবিত জমির রেজিস্ট্রিযুক্ত আমমোক্তারনামা দলিল দিলেও ক্ষতিপূরণের ১ কোটি ১৭ লাখ টাকা আত্মসাৎ করতে সার্ভেয়ার আবদুল মোমিনসহ অন্যরা রাশেদ ও ইদ্রিচের (দালাল) সঙ্গে আঁতাত করেন।

এদিকে বিষয়টি জানতে পেরে যোগাযোগ করলে এলএ শাখার সার্ভেয়ার আবদুল মোমেনসহ অন্যরা বাদীর মক্কেল আবুল কালাম আজাদকে অভিযুক্ত ইদ্রিচের কাছে সব কাগজপত্র বুঝিয়ে দিতে বলেন। এরপর তাকে (আবুল কালাম আজাদ) সাত-আট দিন পর সার্ভেয়ার আবদুল মোমিনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়। বাদীর মক্কেল যোগাযোগ করলে নানা টালবাহানা করতে থাকেন সার্ভেয়ার আবদুল মোমেন। একপর্যায়ে ক্ষতিপূরণ না দিতে বাদীর মক্কেল আবুল কালাম আজাদ গত ১৪ এপ্রিল এলএ শাখায় লিখিত আপত্তি দাখিল করেন। বাদীর মক্কেল কর্তৃক দেওয়া লিখিত আপত্তি সুরাহা না করে ১ মাস ৬ দিন আগের অনুমোদন দেখিয়ে গত ১৪ মে আসামিরা পরস্পর যোগসাজশ করে ক্ষতিপূরণের কথিত আবেদনকারী রাশেদকে ১ কোটি ১৭ লাখ টাকার চেক দিয়ে দেন।