ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর গত ১০ আগস্ট পদত্যাগ করেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ আবদুস সালাাম। একই সঙ্গে পদত্যাগ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমান ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আলমগীর হোসেন ভূঁইয়া। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের প্রধানরাও পদত্যাগ করেছেন। একইসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর নিয়োগ শূন্য থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ে নানা জটিলতা তৈরি হয়েছে।
দীর্ঘ ৪০ দিনেও উপাচার্য নিয়োগ না হওয়ায় সেশনজটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে সীমিত পরিসরে ক্লাস চালু হলেও পরীক্ষা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এতে দীর্ঘ সেশনজট তৈরি হতে পারে বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরা। তাই দ্রুত উপাচার্য নিয়োগের দাবিতে আজ শুক্রবার (২০ সেপ্টেম্বর) বিক্ষোভ মিছিল ও মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন তারা।
জানা গেছে, আজ বিকেল সাড়ে ৪ টায় উপাচার্য দ্রুত সময়ের মধ্যে নিয়োগের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা থেকে মিছিল বের করেন শিক্ষার্থীরা। তারা মিছিলটি নিয়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে কুষ্টিয়া-খুলনা মহাসড়কে অবস্থান নেন। এসময় ওই মহাসড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।
বিক্ষোভ মিছিলে শিক্ষার্থীরা ‘রেকর্ড দেখে ভিসি দিন দুর্নীতির খবর নিন, ক্লিন ইমেজের ভিসি চাই, ক্লাস চাই পরীক্ষা চাই অবিলম্বে ভিসি চাই, সেশনজটের কবর চাই, সংস্কার মনা ভিসি চাই, সৎ ও সাহসী ভিসি চাই, ইবির আঙিনায় দুর্নীতির ঠাঁই নাইসহ বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড নিয়ে অংশ নেন।
এসময় শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘উপাচার্য নিয়োগে আর দীর্ঘসূত্রিতা চলবে না। অবিলম্বে উপাচার্য নিয়োগের ব্যবস্থা করতে হবে। গত ১৫ বছর দলীয় লেজুড়বৃত্তির মাধ্যমে উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আমরা আর কোন লেজুড়বৃত্তির উপাচার্য চাই না। আমরা নিরপেক্ষ, সৎ, দক্ষ ও শিক্ষার্থীবান্ধব উপাচার্য চাই। যিনি প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে সমানভাবে দেখবেন। আমরা এমন উপাচার্য চাই না, যিনি দিনে দুর্নীতি করবে, আর রাতে মাদকের আসর বসাবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্যেক বিভাগকে সেশনজট মুক্ত করবে, এমন উপাচার্য চাই আমরা।’
তারা আরও বলেন, যদি অনতিবিলম্বে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নিয়োগ না দেওয়া হয়, তবে কঠোর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে। অবিলম্বে একজন ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তিকে উপাচার্য নিয়োগ দিতে হবে। বিগত সময়ে উপাচার্যরা রাজনৈতিক দলের মদদপুষ্ট হয়ে দলের হয়ে কাজ করেছেন। দুর্নীতির রেকর্ড যাদের আছে, তাদের আমরা উপাচার্য হিসেবে দেখতে চাই না।