তুমুল সমালোচনার মুখে সম্প্রতি বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ডের নাম পরিবর্তন করে চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ড করার সিদ্ধান্ত হয়। সেন্সর বোর্ডের সদস্যরাই নবগঠিত সার্টিফিকেশন বোর্ডে দায়িত্ব পালন করবেন জানা গেছে। তবে এরমধ্যে দুজন সদস্য সরে দাঁড়ানোয় শূন্যতা সৃষ্টি হলে সেটি পূরণের লক্ষ্যে প্রস্তাব করা হয় ‘আম্মাজান’ খ্যাত অভিনেত্রী শবনমকে।
কিন্তু দুইদিন সময়ে চেয়ে সেই প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছেন তিনি। সেইসঙ্গে জানিয়েছেন নিজের অপারগতা ও অনাগ্রহের কথা।
গত বৃহস্পতিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) মুঠোফোনে কল করে পাকিস্তানের সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কারজয়ী অভিনেত্রী শবনমকে চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ডে থাকার প্রস্তাব দেওয়া হয়। তিনি সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য দুই দিন সময় চান। এর পর অভিনেত্রী বোর্ডে থাকার বিষয়ে অপারগতা প্রকাশ করেন। বিষয়টি নিজেই গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন তিনি।
শবনম বলেন, ‘মুঠোফোনে মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা আমাকে প্রস্তাব করেছিলেন বোর্ডে থাকতে। কিন্তু এ মুহূর্তে আমার শরীর অনেক কিছুই পারমিট করে না। প্রতিদিন ডাক্তারের কাছে যাচ্ছি। সিনেমা নিয়ে ভাবার সময়ও পাই না। তবে, মন্ত্রণালয়কে ধন্যবাদ, তারা আমার কথা মনে করেছেন বলে। কারণ, তারা আমাকে নাও ভাবতে পারতেন।’
কিংবদন্তি এ অভিনেত্রী আরও বলেন, ‘শরীর পারমিট না করলে কিছুই ভালো লাগে না। বোর্ডে থাকলে ভালো লাগত। কিছুদিন আগে পাকিস্তান ফিল্ম ডেভেলপমেন্টের চেয়ারম্যানের পদে অফার করেছিল তারা। এর জন্য মোটা অঙ্কের সম্মানীও দিতে রাজি ছিল। কিন্তু এ বয়সে এই গুরুভার নেওয়ার মতো ফিটনেস আমার নেই। তাছাড়া দেশ ছেড়ে কোথাও আর যেতে চাই না। যে ক’টা দিন বাঁচি, মাতৃভূমিতেই সবার সঙ্গে হেসে-খেলে কাটিয়ে বিদায় নিতে চাই।’
শবনম চলচ্চিত্রে যুক্ত হয়েছিলেন ১৯৫৮ সালে। ১৯৬১ সালে ‘হারানো দিন’ সিনেমার মাধ্যমে জনপ্রিয়তা অর্জন করেন তিনি। এরপরের বছর উর্দু সিনেমা ‘চান্দা’য় অভিনয় করে পাকিস্তানে তারকাখ্যাতি পান। এরপর বাংলাদেশে ১৯৯৯ সালে মুক্তি পাওয়া ‘আম্মাজান’ সিনেমা দিয়ে দর্শক হৃদয়ে জায়গা করে নেন।