ছাত্র-জনতার আন্দোলনে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারে এক মেয়াদে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, আরেক মেয়াদে একই মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক। মন্ত্রীর চেয়ারে বসার পরপরই জড়িয়ে পড়েন নানা অনিয়ম দুর্নীতিতে। তার সিন্ডিকেটের অন্যতম সদস্য মানিকগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ খ ম সুলতানুল আজম খান আপেল। বাসা মানিকগঞ্জ সদরের পূর্ব দাশড়া এলাকায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ২০০৮ সালের নির্বাচনের আগে তার অর্থনৈতিক অবস্থা ছিল শোচনীয়। কিন্তু আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর রাতারাতি বদলে যেতে থাকে সুলতানুলের আর্থিক অবস্থা। জাহিদ মালেকের প্রশ্রয় ও আশীর্বাদে তিনি বিপুল সম্পদের মালিক বনে গেছেন। দেশ রূপান্তরের অনুসন্ধানে সুলতানুল আজমের প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকার সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে।
মানিকগঞ্জ জেলার পুরো পরিবহন খাতের চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ ছিল তার হাতে। সড়কে নতুন গাড়ি নামাতে হলে চাঁদা দিতে হতো সুলতানুলকে। তিনি দীর্ঘদিন জেলা ট্রাক মালিক সমিতি এবং এসি লিংক বাস মালিক সমিতির সভাপতি। নতুন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান স্থাপন কিংবা জমি কেনাবেচাও তাকে চাঁদা না দিয়ে করা যেত না। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) এবং সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরসহ জেলার সব সরকারি দপ্তরের টেন্ডারে ছিল তার একক নিয়ন্ত্রণ। জাহিদ মালেকের তদবির ও ছত্রছায়ায় তিনি নিম্নমানের কাজ করে শত শত কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।
তার কবল থেকে বাদ যায়নি মানিকগঞ্জ ডায়াবেটিস সমিতির অফিসও। সমিতির সাধারণ সম্পাদক পদে বসে সীমাহীন দুর্নীতি ও লুটপাট করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। টাকার বিনিময়ে জনবল নিয়োগ এবং কেনাকাটার নামে আত্মসাৎ করেছেন বিপুল অর্থ। মানিকগঞ্জ ও আশপাশের বিভিন্ন জেলার মাদক কারবারের সিন্ডিকেটের সঙ্গেও তার সংযোগ ছিল বলে জনশ্রুতি রয়েছে। তাকে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের গডফাডার হিসেবে চেনেন এলাকাবাসী। স্থানীয় বাসিন্দা নরেন্দ্র মন্ডলের ১২ বিঘা জমি জোর করে দখল করেছেন। এছাড়া সদর উপজেলার আরও অনেকের জমি দখলের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
সুলতানুল আজমের মালয়েশিয়ায় বাড়ি রয়েছে বলে একাধিক ব্যক্তি জানিয়েছেন। জেলা সদরের শিববাড়ীতে পাঁচতলা বাড়ি রয়েছে তার। শহরের শহীদ রফিক সড়কে স্বর্গ ভবন নামে ৬ শতাংশ জায়গায় ১০ তলা একটি ভবন রয়েছে। সুলতানুলের আরও একটি সাততলা ভবন রয়েছে মানিকগঞ্জ শহরে পৌরভবনসংলগ্ন এলাকায়। এ ছাড়া বিভিন্ন সড়কে চলাচল করা তার ৫০টির বেশি ট্রাক ও এসি লিংক বাস রয়েছে। মানিকগঞ্জ ও সাটুরিয়া উপজেলায় নামে-বেনামে রয়েছে কৃষিজমি। রয়েছে দুটি প্রাডো গাড়ি। শহীদ রফিক সড়কে আছে ২৪ শতক জমি, যেখানে প্রতি শতক জমির দাম ৩০ লাখ টাকা।
তবে অভিযোগের বিষয়ে জানতে সুলতানুল আজম খান আপেলের মোবাইলে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়। অপরদিকে আত্মগোপনে থাকায় সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকের বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।