লক্ষ্মীপুর ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে দুস্থ ভাতার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে এক ইউপি চেয়ারম্যান ও তার দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে ভিজিডি ভাতাভোগীদের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্তরা হলেন- উপজেলার চর মার্টিন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. ইউছুফ আলী মিয়া, উদ্যোক্তা মো. আফসার, ভাতাভোগীদের কাছ থেকে সঞ্চয়ের টাকা উত্তোলনকারী মো. ইকবাল হোসেন।

স্থানীয় ভাতাভোগীরা জানান, তারা চর মার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোক্তা চেয়ারম্যান ইউছুফ আলীর ভাই আফসার ও ইকবাল হোসেনের কাছে ভাতা বইয়ের মাসিক টাকা জমা দেন। প্রতি নামে ২৪০ টাকা করে গত ১৯ মাস চাল নিতে এসে টাকা জমা দিয়ে বইয়ে টাকার অঙ্ক তুলেন। হঠাৎ জানতে পারেন ভাতা বইয়ে টাকা জমা হলেও ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পুরো টাকা জমা হয়নি। কারও অর্ধেক, কারও কিছু টাকা, কারও একেবারেই জমাও হয়নি।

ভাতাভোগী জাহানারা বেগম জানান, তার কাছ থেকে গত ১৯ মাস পরিষদের উদ্যোক্তা আফসার ও ইকবাল টাকা নিয়েছে, বইয়ের মধ্যেও জমা দেন। তার ভাতা বইয়ে ৪ হাজার ৪৪০ টাকা জমা দেখা যাচ্ছে, তবে তার নামে কোনো অ্যাকাউন্ট নেই।

রুপালী বেগম জানান, তার বইয়ে জমা আছে ৪ হাজার ৪২০ টাকা, তবে ভাতা অ্যাকাউন্টে জমা রয়েছে ২ হাজার ৫০ টাকা। আরও বিভিন্ন ভাতা ভুক্তভোগীরা জানান, তারা চাল নিতে প্রতি মাসে টাকা জমা দিয়েছেন। তবে তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পুরো টাকা জমা নেই। টাকার কোনো হিসাব নেই। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কিছু ভুক্তভোগী জানান, চেয়ারম্যান মো. ইউছুফ আলী মিয়া তার আপন ভাই মো. আফসারকে উদ্যোক্তা, তার আরেক ভাই মো. ইকবাল হোসেনকে ভিজিডি ভাতার টাকা জমা নিতে দায়িত্ব দেন। তারা ৩ ভাই মিলে পরিষদের সব লুটে খাচ্ছে।

জানা যায়, চর মার্টিন ইউনিয়নে দু’তিনজন মেম্বার, সচিব, ও ট্যাগ অফিসার দিয়ে ভিজিডির দু’মাসের চাল বিতরণ করা হচ্ছে। ২৪০ জনের নামে ভিজিডির কার্ড বরাদ্দ হয়েছে। এদের মাসে ৩০ কেজি চাল বিতরণ করা হয়। সব কার্ডের ভাতাভোগীর জমা টাকা নিয়ে একই প্রতারণা বা আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে। 

মো. ইমান আলী মেম্বার জানান, ভিজিডির ভাতাভোগীদের বইয়ে জমা টাকার সঙ্গে ব্যাংক জমা টাকার কোনো মিল নেই। কারও বইয়ে অর্ধেক টাকা, কারও বইয়ে কিছু টাকা জমা দেখা যাচ্ছে। এসব নিয়ে ঝামেলা হলে চাল বিতরণ বন্ধ হয়। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে ট্যাগ অফিসার, সচিব দিয়ে চাল বিতরণ করেন। টাকা আত্মসাৎ বা কেন জমা হয়নি বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবে উপজেলা প্রশাসন।

উদ্যোক্তা মো. আফসার জানান, তিনি পরিষদের উদ্যোক্তা না থাকায় দায়িত্ব পালন করেন। তবে টাকা জমা বা নেওয়ার তার কাজ নই। মো. ইকবাল হোসেন জানান, ভিজিডি কার্ডে টাকা জমার বিষয়ে একটু সমস্যা ছিল। সেটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সূচিত্র রঞ্জন দাসের নির্দেশে সমাধান করা হচ্ছে। 

উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ও ট্যাগ অফিসার মো. মোরশেদ আলম জানান, ভাতাভোগীরা প্রতি মাসে ব্যাংকে তাদের অ্যাকাউন্টে ২৫০ টাকা করে দু’বছর জমা রাখবে এবং ৩০ কেজি চাল নেবে। হঠাৎ জানতে পারি ভাতাভোগীদের অ্যাকাউন্টে টাকা জমা নেই, তবে ভাতা বইয়ে টাকা জমা রয়েছে। এসব বিষয়ে ঝামেলা হয়। 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সূচিত্র রঞ্জন দাস জানান, উপজেলার চর মার্টিন ইউনিয়ন পরিষদে ভিজিডি কার্ডে মাসিক সঞ্চয়ে ঝামেলার কথা শুনেছি। চেয়ারম্যার না থাকায় দায়িত্বরতদের যতদ্রুত সম্ভব সমাধান করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।