ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকার পতনের দেড়মাস পরও চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগের অনেক নেতা-কর্মী, সাবেক মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য অবৈধভাবে দেশত্যাগের চেষ্টা করছেন। ইতিমধ্যে তিনজন প্রভাবশালী মন্ত্রী দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। এছাড়া, পালাতে গিয়ে গত ১২ সেপ্টেম্বর সীমান্তে ধরা পড়েছেন রাউজানের সাবেক সংসদ সদস্য এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী।
এদিকে আওয়ামী লীগ সরকারে থাকা প্রভাবশালী তিনজন মন্ত্রীসহ চট্টগ্রামের ১৬ জন সংসদ সদস্যের একটি তালিকা চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন পুলিশের হাতে রয়েছে। তালিকাভুক্ত এসব সাবেক মন্ত্রী ও এমপিকে বিমানবন্দরে পেলেই গ্রেপ্তার করা হবে। রবিবার (২২ সেপ্টেম্বর) একটি গোয়েন্দা সংস্থার দায়িত্বশীল সূত্র দেশ রূপান্তরকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
তালিকাভুক্তদের মধ্যে রাউজানের সাবেক এমপি ফজলে করিম চৌধুরীসহ ৩ জনকে ভারতে পালানোর সময় গত ১২ সেপ্টেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া সীমান্ত এলাকা থেকে আটক করে বিজিবি। এর আগে গত ১৬ আগস্ট চট্টগ্রাম-১১ আসনের সাবেক সদস্য এম এ লতিফকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তারা দু’জনই এখন চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে কারাবন্দী।
বিমানবন্দর সূত্র জানায়, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পরপর ইমিগ্রেশন পুলিশের তালিকাভুক্ত সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, ড. হাছান মাহমুদসহ বেশ কয়েকজন আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি, যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতা সীমান্তবর্তী এলাকায় আশ্রয় নেন। পরে সুযোগ বুঝে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারত চলে যান। সেখান থেকে হাছান মাহমুদ চলে যান বেলজিয়ামে এবং সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ পাড়ি জমান সিঙ্গাপুরে।
চট্টগ্রামের যে ১৬ জন সংসদ সদস্যের তালিকা শাহ আমানত বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন পুলিশের হাতে রয়েছে তারা হলেন— চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসনের মাহবুবুর রহমান রুহেল, চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনের খদিজাতুল আনোয়ার সনি, চট্টগ্রাম-৩ (সন্দীপ) আসনের মাহফুজুর রহমান মিতা, চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনের এসএম আল মামুন, চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) আসনের আনিছুল ইসলাম মাহমুদ, চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনের ফজলে করিম চৌধুরী (গ্রেপ্তার হয়েছেন), সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনের ড. হাছান মাহমুদ, চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী ও চান্দগাঁও) আসনের আবদুস ছালাম, চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালী-বাকলিয়া) আসনের মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, চট্টগ্রাম-১০ (পাহাড়তলী-ডবলমুরিং) আসনের মহিউদ্দিন বাচ্চু, চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) আসনের এম এ লতিফ (গ্রেপ্তার হয়েছেন), চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনের মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরী, সাবেক ভূমিমন্ত্রী ও চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) আসনের সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, চট্টগ্রাম-১৪ (দোহাজারী) আসনের নজরুল ইসলাম, চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া ও লোহাগাড়া) আসনের এমএ মোতালেব, চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনের মুজিবুর রহমান ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) সাবেক মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী।
গোয়েন্দা সূত্রটি জানায়, যারা এখনো পালানোর চেষ্টায় আছেন, তাদের প্রায় সবাই হত্যাসহ বিভিন্ন মামলার আসামি। প্রশ্ন উঠেছে, সরকার পতনের এত দিন পরও কীভাবে এসব ব্যক্তি দেশ ছেড়ে পালাতে পারছেন।