রবিউল আউয়াল মাসে রাসুল (সা.)-এর জন্ম ও ওফাত ছাড়াও আরও কিছু ঘটনাবলি রয়েছে। সেগুলো তুলে ধরা হলো।
মসজিদে কুবা নির্মাণ : মদিনার আনসার সাহাবিরা যখন জানতে পারল নবীজি মদিনায় হিজরত করছেন। তখন তারা তাকে অভিবাদন জানানোর জন্য প্রতিদিন কুবা নামক স্থানে একত্রিত হতেন। সেখানে তার আগমনের অপেক্ষা করতেন। অবশেষে তিনি যখন রবিউল আউয়াল মাসে সেই স্থানে পৌঁছলেন তখন আমর ইবনে আউফ (রা.)-এর বাড়িতে অবস্থান করেন। কিছুক্ষণ বিশ্রাম করার পর সর্বপ্রথম তিনি মসজিদে কুবা নির্মাণ করার প্রস্তুতি নেন। অতঃপর কুলসুম ইবনে হাদিম (রা.)-এর জমিতে এ মসজিদ নির্মাণ করেন। ইসলামে সর্বপ্রথম মসজিদ এটিই, যা রবিউল আওয়াল মাসের ৮ তারিখে নির্মিত হয়।
উম্মে কুলসুম (রা.)-এর বিবাহ : তৃতীয় হিজরির রবিউল আউয়াল মাসে উসমান (রা.)-এর সঙ্গে রাসুল (সা.)-এর কন্যা উম্মে কুলসুমের বিয়ে হয়। প্রথমে আবু লাহাবের দ্বিতীয় ছেলে উতাইবার সঙ্গে তার বিয়ে হয়েছিল। কিন্তু সুরা লাহাব নাজিল হলে এবং তাতে আবু লাহাবকে চরমভাবে লাঞ্ছিত করা হলে উতাইবা নবীজির সঙ্গে বেয়াদবিমূলক আচরণ করে এবং সঙ্গে সঙ্গে উম্মে কুলসুম (রা.)-কে তালাক দিয়ে দেয়।
নবীজির শেষ সন্তানের মৃত্যু : ইব্রাহিম (রা.) রাসুল (সা.)-এর সর্বশেষ সন্তান ছিলেন। তিনি ৬৩০ খ্রিস্টাব্দের ৯ রজব মদিনার নিকটবর্তী আলিয়া নামক স্থানে জন্মগ্রহণ করেন। হজরত মারিয়া কিবতিয়া (রা.)-এর গর্ভ থেকে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। আবু রাফে ছিলেন রাসুল (সা.)-এর আজাদকৃত গোলাম। তিনি ইব্রাহিম (রা.)-এর জন্মের সুসংবাদ রাসুল (সা.)-কে দেন। তখন রাসুল (সা.) অত্যন্ত খুশি হয়ে তাকে পুরস্কারস্বরূপ একটি গোলাম হাদিয়া দেন। সুসংবাদ পাওয়ার কিছুক্ষণ পরই জিব্রাইল (আ.) রাসুল (সা.)-কে ‘হে ইব্রাহিমের পিতা’ বলে ডাক দেন। তাকে দুধ পান করানোর জন্য উম্মে সাইফ (রা.)-এর কাছে সোপর্দ করেন। দুধ পান করানো অবস্থায় রবিউল আউয়াল মাসে তিনি ইন্তেকাল করেন।
মুয়াজ ইবনে জাবাল (রা.)-এর মৃত্যু : তিনি রাসুল (সা.)-এর অত্যন্ত প্রিয় একজন সাহাবি ছিলেন। তিনি একজন ফকিহ তথা ইসলাম ধর্মের পণ্ডিত ছিলেন। মক্কা বিজয়ের পর রাসুল (সা.) তাকে একটি কাফেলার প্রধান বানিয়ে ইয়েমেনে প্রেরণ করেন। সেখানে তিনি ইসলাম প্রচার করতে থাকেন এবং মানুষদের
দ্বীনের পথে ডাকতে থাকেন। লোকজন ইসলাম সম্পর্কে জানার জন্য তার আশপাশে জড়ো হতেন। অবশেষে তিনি ১৮ হিজরির রবিউল আউয়াল মাসে ইন্তেকাল করেন।