২১ সেপ্টেম্বর বিশ^ জুড়ে পালিত হলো আলঝেইমার দিবস। এবারে দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল ‘ডিমেনশিয়া জানুন, আলঝেইমারকে জানুন’। সাধারণত এই রোগটি বৃদ্ধ বয়সে দেখা দেয়। ষাটোর্ধ প্রতি ২০ জনে ১ জন ব্যক্তি আলঝেইমার রোগে ভোগেন। আশি বছরের বেশি প্রতি ৫ জনে ১ জন ব্যক্তি ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত হন। কিছু কিছু ক্ষেত্রে ষাট বছরের কম বয়সী লোকজনও এ রোগে আক্রান্ত হতে পারেন। আমাদের জীবনযাত্রার পদ্ধতি এবং গড় আয়ুষ্কাল বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ডিমেনশিয়া রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। ২০১৫ সালে বাংলাদেশে অনুমিত ডিমেনশিয়া রোগীর সংখ্যা ছিল ৪ লাখ ৬০ হাজার এবং ২০৩০ সালে তা বেড়ে গিয়ে দাঁড়াবে ৮ লাখ ৩৪ হাজার এবং ২০৫০ সালে সেটা হবে ২১ লাখ ৯৬ হাজার।
রোগের কারণ
মস্তিষ্কের নিউরন শুকিয়ে যাওয়া অ্যালঝেইমারস ডিজিজ, পারকিনসন ডিজিজ, বারবার স্ট্রোক, ভটামিন বি ১২-এর অভাব, মস্তিষ্কের সংক্রমণ, যেমন এইডস, নিউরো-সিফিলি, ব্রেন টিউমার মাথায় আঘাতজনিত কারণ, থাইরয়েড হরমোনের সমস্যা, দীর্ঘমেয়াদি ওষুধ সেবনের পাশর্^প্রতিক্রিয়া, বংশগত কারণ, মাদকাসক্তি, বিষণœতা।
রোগ নির্ণয়
রোগের সঠিক ইতিহাস, পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে এই রোগের লক্ষণগুলোর বিশ্লেষণ করা হয়। আবার ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা যেমন : মিনি মেন্টাল স্ট্যাটাস পরীক্ষা, প্রয়োজনীয় বায়োকেমিক্যাল পরীক্ষা, নিউরো-ইমেজিং, ব্রেন বায়োপসি সাহায্যে রোগ নির্ণয় করা যায়।
কীভাবে বুঝবেন আক্রান্ত স্মৃতিশক্তি লোপ, প্রতিদিনের কাজের বিভ্রান্তি, ভাষাগত সমস্যা, সময় ও স্থান চিহ্নিত করতে অপারগতা, বিচার-বিবেচনার মাত্রা কমে যাওয়া, অন্যমনস্ক হওয়া, জিনিসপত্র হারিয়ে ফেলা, মেজাজ ও স্বাভাবিক আচার-আচরণে পরিবর্তন, ব্যক্তিত্ববোধের পরিবর্তন, কর্মোদ্যম হারিয়ে ফেলা, অনিদ্রা, খাবারে অরুচি দেখা দেয়।
চিকিৎসা
ডিমেনশিয়া রোগীদের হাসপাতালে ভর্তি করে দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার প্রয়োজন হয় না সাধারণত। তবে কখনো কোনো রোগীকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সঠিক রোগ নির্ণয়ের জন্য হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। এক্ষেত্রে একজন চিকিৎসকের দায়িত্ব হচ্ছে, রোগীর ডিমেনশিয়ার মূল কারণ শনাক্ত করে তার চিকিৎসা দেওয়া। যদি রোগীর ইরিভারসিভল ডিমেনশিয়া হয়ে থাকে অর্থাৎ যেটা চিকিৎসার মাধ্যমে সম্পূর্ণ আরোগ্য সম্ভব হয় না, তখন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককে রোগীর নিকট আত্মীয় বা সেবাপ্রদানকারীকে বিশদভাবে রোগীর রোগের বর্ণনা দিতে হবে এবং ভবিষ্যতে এই রোগের প্রকৃতি, সেবার ধরন ও চিকিৎসা পদ্ধতি সম্পর্কে ধৈর্য সহকারে চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হবে।