মানুষের চাহিদার কোনো শেষ নেই। সবকিছু থাকার পরও কিছু মানুষ বলে, আমার এটা নেই, ওটা নেই। খালি নেই আর নেই। তারা ভালো থেকেও সন্তুষ্ট না। আরও চাই। চাইতে চাইতে হা-হুতাশে জীবনকাল শেষ হয়ে যায়। তবুও মেলে না সুখের দেখা। যা নেই, তা তো নেই-ই। সেটার জন্য এই মায়াকান্নার অর্থ কী? অসন্তুষ্ট মন কখনো সুখী হতে পারে না। বরং অল্প থাকার পরও যে বান্দা প্রাণ খুলে আল্লাহর সন্তুষ্টি আদায় করে সেই প্রকৃত সুখী। আল্লাহও তার প্রতি খুশি হন। আল্লাহর শুকরিয়া আদায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ। এটা সবাই করতে পারে না। এই সমাজে এটা নেই ওটা নেই বলা লোকের সংখ্য বেশি। অথচ তার যা আছে, তা যে অসংখ্য মানুষের নেই, সে কথা একবারও ভাবে না।
মহান আল্লাহ যতটুকু দিয়েছেন ততটুকুর জন্য শুকরিয়া আদায় করা উচিত। মহান আল্লাহ কৃতজ্ঞ বান্দাদের পছন্দ করেন।
অকৃতজ্ঞদের জন্য তার আজাবের হুঁশিয়ারি রয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘যদি তোমরা শুকরিয়া আদায় করো, তবে আমি অবশ্যই তোমাদের (আমার নেয়ামত) বাড়িয়ে দেব। আর যদি তোমরা অকৃতজ্ঞ হও, নিশ্চয়ই আমার আজাব বড় কঠিন। (সুরা ইবরাহিম/৭)
আল্লাহর কৃতজ্ঞতা আদায় করা মুমিনের অন্যতম গুণ। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, মুমিনের বিষয়াদি কত আশ্চর্যের! তার সবকিছুই কল্যাণকর। আর এটা তো কেবল মুমিনের ক্ষেত্রেই হতে পারে। সচ্ছলতায় সে শুকরিয়া আদায় করে। তখন তা তার জন্য কল্যাণকর হয়। আর যদি তার ওপর কোনো বিপদ নেমে আসে তাহলে সে ধৈর্য ধারণ করে। ফলে সেটাও তার জন্য কল্যাণকর হয়ে যায়। (সহিহ মুসলিম) দুঃখজনক হলেও সত্য, মানুষ তার স্রষ্টার প্রতি বড়ই
অকৃতজ্ঞ। অসংখ্য নেয়ামতের মধ্যে মানুষ দিনাতিপাত করছে। মানুষ যদি আল্লাহর নেয়ামত গণনা করতে চায় তাহলে তা গুনে শেষ করতে পারবে না। অথচ সামান্য এদিক ওদিক হলেই মহান আল্লাহকে দোষারোপ করতে মানুষের বাধে না। মানুষের এই
অকৃতজ্ঞতা আল্লাহর অজানা নয়। তিনি বলেছেন, ‘অবশ্যই আমি তোমাদের
পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠিত করেছি এবং তাতে তোমাদের জন্য রেখেছি জীবনোপকরণ। তোমরা খুব কমই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে থাক।’ (সুরা আরাফ/১০)
সৎভাবে আয় বাড়ানোর চেষ্টা করা দোষের কিছু নয়। কিন্তু অসৎ পথে উপার্জন করা থেকে বিরত থাকতে হবে। কেউ সারা জীবন অসৎ পথে আয় করল। আবার মনের প্রশান্তিও খুঁজল। এটা তো আসলে হওয়ার নয়। আয় হালাল না হলে সুখ আসে না। দৃশ্যত গাড়ি-বাড়ি, ধন-দৌলত সবই আছে। কিন্তু মনে সুখ নেই। সংসারে শান্তি নেই। সুখ চাইলে আয় সৎপথে হতে হবে। হালাল পথে আয় করা ফরজ। প্রকৃতপক্ষে যারা সুখী মানুষ তারা অল্পে তুষ্ট হয়ে থাকেন। যা আছে সেটার জন্যই মহান আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করেন। যা নেই কিন্তু তার মন চায়, সেটার জন্য সৎভাবে চেষ্টা করেন। কিন্তু কখনো হা-হুতাশ করেন না। সে জানে, না থাকাটাও তার জন্য কল্যাণকর।