মহামারী করোনার আগপর্যন্ত বাংলাদেশের জিডিপির বেশ ভালো প্রবৃদ্ধিই ছিল। অর্থনীতিও এগিয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু আর্থিক খাতে লুটপাট, দুর্নীতি আর মুদ্রা পাচারে সব ডুবেছে। লুটপাটের প্রভাব স্পষ্ট হয়েছে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর। বিদেশি মুদ্রায় আমদানি করা কাঁচামাল দিয়ে পণ্য রপ্তানি করে অর্থ দেশে না আনা, আমদানি-রপ্তানিতে মূল্য কমবেশি দেখিয়ে অর্থ পাচার ও ঋণ করে অলাভজনক উন্নয়নের খেসারত হিসেবে এক সময়ের রেকর্ড বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ ঝুঁকিতে পড়েছে। ফলে আমদানিনির্ভর বাংলাদেশকে খাদ্য ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা বজায় রাখতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
গত ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার দেশের স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনতে চেষ্টা চালাচ্ছে। ইতিমধ্যেই রাষ্ট্রের বিভিন্ন খাত সংস্কারে কমিশন গঠন করা হয়েছে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণকে প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়ে আর্থিক খাত সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ নয় এমন প্রকল্প বন্ধ রেখে সরকারের ব্যয় কমিয়ে কৃচ্ছ্রসাধনের পথ গ্রহণ করা হয়েছে। নতুন সরকারের বিদ্যমান সংকট বিশেষ করে বিদেশি মুদ্রার সংকট কাটাতে এগিয়ে এসেছে উন্নয়ন সহযোগীরা। স্বল্প সময়ে বাজেট সহায়তাসহ বিভিন্ন খাতে সাড়ে ১২ বিলিয়ন ডলারের ঋণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সংস্থাগুলো। বিপুল এই ঋণ বাংলাদেশের বিদেশি মুদ্রার সংকট কাটাতে যেমন সহায়তা করবে, তেমনি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রেও তা ব্যাপক ভূমিকা রাখবে।
তবে নতুন সরকার গঠনের পর দেড় মাস পার হলেও দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখনো স্বাভাবিক হয়নি। মব জাস্টিজ, পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা, শ্রম আন্দোলন, সরকারি বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দাবি আদায়ের আন্দোলন, ব্যবসা-বাণিজ্যে নিরাপত্তাহীনতাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এখন বড় চ্যালেঞ্জ। এতে বিদেশি ঋণপ্রাপ্তি ও রেমিট্যান্স বৃদ্ধিতে দেশে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় এগিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত মিললেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়ায় এর সুফল পাওয়া যাবে না বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।
এদিকে উন্নয়ন কর্মকা-ে সরকারের কৃচ্ছ্রসাধনের উদ্যোগে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, ঋণ সংকটের কারণে আগের সরকারই অনেক উন্নয়ন প্রকল্প স্থগিত রেখেছিল। নতুন সরকার তাতে আরও কড়াকড়ি আরোপ করেছে।
উন্নয়নের গতি কমে যাওয়ায় বিগত আওয়ামী লীগ সরকারও ২০২৩-২৪ জিডিপি প্রবৃদ্ধির প্রাক্কলন কমিয়ে ৫ দশমিক ৮ শতাংশে নামিয়ে সাময়িক হিসাব করা হয়েছে। যদিও ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জিডিপির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ দশমিক ৭৫ শতাংশ।
এই প্রবৃদ্ধির প্রাক্কলন করা হয়েছিল বেসরকারি খাতের বিনিয়োগের ওপর নির্ভর করে। বিগত সরকারের পরিকল্পনা ছিল জিডিপিতে বেসরকারি খাতের বৃদ্ধি ২৩ দশমিক ৫১ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৭ শতাংশে উন্নীত করা। কিন্তু মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সংকোচনমূলক যে মুদ্রানীতি গ্রহণ এবং সুদহার বৃদ্ধি করা হয়, তাতে বেসরকারি বিনিয়োগ কমে যাওয়ার সম্ভাবনাই তৈরি হয়েছে। ফলে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি বাস্তবায়ন ও বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার উন্নয়ন ব্যয় আরও কমিয়ে আনায় জিডিপির যে প্রাক্কলন করা হয়েছে, তা অর্জিত হবে না। অবশ্য জিডিপি কমলেও বর্তমান সরকার অর্থনীতি সংস্কার ও মুদ্রা ব্যবস্থাপনায় যেসব উদ্যোগ নিয়েছে এগুলো বাস্তবায়িত হলে অর্থনীতি স্থিতিশীলতার দিকে এগিয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বিপুল পরিমাণের ঋণ পেলেও অর্থনীতিতে চ্যালেঞ্জও রয়েছে। চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করতে না পারলে কোনোভাবেই সুযোগ কাজে লাগানো যাবে না। রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় ফিরে আসা অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। পরিস্থিতির উন্নতি না হলে ঋণ আকারে আসা বাজেট সহায়তাগুলোও কোনো কাজে আসবে না।
বাংলাদেশ গত দুই বছর উচ্চ মূল্যস্ফীতির ভার কাঁধে বয়ে বেড়াচ্ছে। গত আগস্টেও মূল্যস্ফীতি ১০ দশমিক ৪৯ শতাংশ ছিল। জ¦ালানি সংকটে কমে গেছে শিল্প উৎপাদন, লুটপাটে ব্যাংক খাতে তারল্য সংকট, রপ্তানির চিত্রে উদ্বেগজনক বড় পরিবর্তন, বিদেশি ঋণের অর্থছাড়ে স্থবিরতাসহ বিগত সরকারের আমলে অর্থনীতি যে টালমাটাল অবস্থা ছিল, তা এখনো অব্যাহত রয়েছে।
সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক মডেলিংয়ের (সানেম) নির্বাহী পরিচালক ড. সেলিম রায়হান দেশ রূপান্তরকে বলেন, সংকোচনমূলক মুদ্রানীতির উদ্দেশ্যই হলো অর্থনীতির অস্থিরতার গতিটাকে থামানো। আমাদের অর্থনীতি ইতিমধ্যেই অস্থির হয়ে আছে, এটিকে স্থিতিশীল করতে গেলে অবশ্যই যদি মুদ্রা সরবরাহ কমে, সুদের হার বাড়ে এবং সুদের হার বাড়ার কারণে ব্যক্তি খাতে ঋণ সরবরাহ যদি কমে তবে অবশ্যই বিনিয়োগ কম হবে জিডিপিতে অবশ্যই বড় ইফেক্ট পড়বে। সরকারের কাছে যেহেতু মূল্যস্ফীতি কমানোই সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার, সেটি কমাতে গিয়ে যে পদক্ষেপগুলো নেওয়া হবে সেটি অবশ্যই প্রবৃদ্ধি কমাবে।
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় এখন পর্যন্ত যে পদক্ষেপগুলো নেওয়া হয়েছে সেগুলো ঠিক আছে বলে মনে করেন সেলিম রায়হান। তিনি বলেন, মুদ্রানীতিতে আরও কিছু উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে মূল্যস্ফীতি কমানোর জন্য। তবে সামগ্রিক অর্থনীতির কতটুকু উন্নতি হচ্ছে তা নির্ভর করছে রাজনৈতিক ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর। এ পরিস্থিতির উন্নতি খুব দ্রুতই প্রয়োজন। এখনো পুরো দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে বলে মনে হয় না।
সেলিম রায়হান বলেন, আইনশৃঙ্খলার ওপরের পর্যায়ে যখন নিয়ন্ত্রণ থাকে না, তখন পণ্য পরিবহনে যে সাপ্লাই চেইন সেটাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সেটিও মূল্যস্ফীতি কমাতে সহায়তা করবে না। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার কত দ্রুত আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে আনতে পারবে, সাপ্লাই চেইনগুলো ঠিক রাখতে পারবে, স্থিতিশীল অবস্থায় আনতে পারবে সেগুলোর ওপর নির্ভর করছে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি। তাছাড়া মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ শুধু মুদ্রানীতির মাধ্যমে নয়, বরং রাজস্বনীতি, বাজার ব্যবস্থাপনাগুলো একটি সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে করতে হবে। সেটির ওপর নির্ভর করবে অর্থনীতি কতটা গতিশীল হয়েছে।
পশ্চিমা বিশে^র সঙ্গে নোবেলজয়ী ড. ইউনূসের বন্ধুত্বের কারণে এক মাসেরও কম সময়ে সাড়ে ১২ বিলিয়ন ডলার ঋণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে উন্নয়ন সহযোগীরা। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ১৫ লাখ কোটি টাকার সমান। এটি এক কথায় নজিরবিহীন। নগদ সহায়তা ও প্রকল্প সহায়তায় এসব প্রতিশ্রুতির অর্থ এলে পাল্টে যেতে পারে দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতির সব চিত্র।
যেসব প্রতিশ্রুতি এখন এসেছে সেগুলো কিছু বাজেট সহায়তা, বাকি অর্থ প্রকল্প ঋণে। প্রাথমিকভাবে বাংলাদেশের ভঙ্গুর ব্যাংক খাতের মেরুদ- সোজা করতে বা বাংলাদেশ ব্যাংককে ১০০ কোটি ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সবচেয়ে বড় উন্নয়ন সহযোগী বিশ্বব্যাংক। বিপুল অঙ্কের দায় থাকা জ¦ালানি খাত সংস্কারে আসবে ২০০ কোটি ডলার। এর ফলে জ¦ালানি আমদানি বাড়বে, সংকটে ধুঁকতে থাকা উৎপাদন খাত পূর্ণ উৎপাদনে ফিরতে পারবে।
ইতিমধ্যে দেশে বেশ কিছু অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রস্তুত হয়েছে বিনিয়োগের জন্য। কিন্তু এসব অর্থনৈতিক অঞ্চলে শিল্প হলেও বড় চ্যালেঞ্জ দক্ষ জনবল। দক্ষ জনবল না থাকায় দেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি খাত পোশাক শিল্পে কর্মী নিয়োগ দিতে হয় বাইরের দেশ থেকে। গত বৃহস্পতিবার বিশ্বব্যাংক ২ দশমিক ৩ বিলিয়ন ঋণের প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পর সংস্থাটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, তারা দেশের ২০ লাখ জনশক্তিকে দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে আগ্রহী। অর্থাৎ জনবলকে দক্ষ করার দিকে নজর উন্নয়ন সহযোগীদেরও।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) জুন শেষের ত্রৈমাসিক শ্রমশক্তি জরিপের তথ্য বলছে, দেশের বেকারত্বের হার আট বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। একই প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে গত এক বছরে ১১ লাখ শ্রমিক কাজ হারিয়েছে। সব মিলিয়ে বেকার জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানই বড় চ্যালেঞ্জ অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে।
সবচেয়ে বড় সমস্যায় ভুগছে বেসরকারি খাত। অর্থ মন্ত্রণালয়ের মধ্যমেয়াদি সামষ্টিকনীতি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও সংকোচনমূলকনীতি ব্যবস্থার কারণে ব্যক্তি খাতের ভোগব্যয় ও বিনিয়োগের প্রবৃদ্ধি কমেছে। ২০২২-২৩ অর্থবছর শেষে বেসরকারি বিনিয়োগের প্রবৃদ্ধি নেমে আসে ২ দশমিক ৯ শতাংশে, আগের অর্থবছরে এ খাতের প্রবৃদ্ধি ছিল ১১ দশমিক ৮ শতাংশ।
বাজেট সহায়তার জন্য আসা বিদেশি ঋণ কীভাবে কাজে লাগানো যায় এমন প্রশ্নের জবাবে সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের সম্মাননীয় ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, যেহেতু এসব প্রতিশ্রুতির বড় অংশ আসবে বাজেট সহায়তা হিসেবে, আমাদেরই ঠিক করতে হবে আমরা কোথায় তা ব্যবহার করব। আমাদের অগ্রাধিকার ঠিক করে সেটি আমাদের করতে হবে। এটা খুব ভালো যে আমরা বিদেশি প্রতিশ্রুতি পাচ্ছি। আমাদের রিজার্ভও এখন খুব চাপের মধ্যে আছে, সুতরাং এখন যদি এ সময়ে এটি আসলে আমাদের ব্যালান্স অব পেমেন্ট পজিশনটাও ভালো হবে। রিজার্ভের ওপরও এটার ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। আমাদের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকা- যেগুলো আছে, যেহেতু বাজেটারি সাপোর্টে সুনির্দিষ্ট প্রয়োজন বলে দেওয়া থাকে না, সেটি সেখানে আমরা ব্যবহার করতে পারব। তিনি বলেন, পরিকল্পনা উপদেষ্টা যেটি বলেছেন আমাদের পাইপলাইনের ঋণ যত দ্রুত ব্যবহার করতে পারি, এগুলো করলে অর্থনীতির ওপর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
দক্ষ শ্রমিক বাড়ানো প্রসঙ্গে মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এর আগে আমরা দেখেছি হাজার হাজার কোটি টাকা প্রশিক্ষণের নামে ব্যয় হয়েছে, কিন্তু সেগুলো তেমন কাজে লাগেনি। সুতরাং এখন আমাদের যে জায়গাগুলোতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, যেখানে আমাদের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পাবে, সেসব জায়গায় বিনিয়োগ করতে হবে।
তার মতে, আমাদের অর্থনৈতিক অঞ্চল যেগুলো শেষ হয়েছে সেখানে বিনিয়োগকারীরা যেভাবে আগ্রহ দেখাচ্ছে, ওইসব জায়গায় আমাদের দক্ষতা সৃষ্টি করতে হবে। বিদেশের বাজারগুলোতেও কোন জায়গায় আমাদের চাহিদা সৃষ্টি হবে বিশেষ করে মেডিকেয়ার, নার্সিং, মেডিকেল টেকনিশিয়ান এসব জায়গায় অনেক চাহিদার সৃষ্টি হবে। ভালোভাবে স্টাডি করে এসব জায়গায় বিনিয়োগ করতে পারলে আমাদের জন্য ভালো হবে।
সেলিম রায়হান বলেন, অর্থনীতি অনেক দিন ধরে স্থবির হয়ে আছে। ব্যক্তি খাতের বিনিয়োগও কীভাবে ত্বরান্বিত করা যায়, সেটাও উদ্যোগ নিতে হবে। ব্যাংকিং সেক্টর একটি বড় সংকটের মধ্যে আছে, এরকম সংকট যদি ব্যাংক খাতে থাকে তাহলে প্রকৃত উদ্যোক্তা যারা, তাদের ঋণপ্রাপ্তিতে সমস্যা হবে। এসব সমস্যা সমাধানের জন্য একটা কমিশন করা হয়েছে আশা করব তারা যে পরামর্শগুলো দেবে, অন্তর্বর্তী সরকার সেগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করবে।