হলে হলে ছাত্রলীগের ফেলে যাওয়া অস্ত্র

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) আবাসিক হলগুলো হয়ে উঠেছিল ছাত্রলীগের ‘অস্ত্রাগার’। গত আগস্ট মাসে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর রাবি ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা চলে যান আত্মগোপনে। যাওয়ার সময় আওয়ামী লীগের ভাতৃপ্রতিম সংগঠনটির ওইসব নেতারা বিভিন্ন হলের দখল নেওয়া কক্ষগুলোতে ফেলে গেছেন বিপুল পরিমাণ দেশি অস্ত্র। বিশ্ববিদ্যালয় খোলার পর থেকে বিভিন্ন অভিযানে একের পর এক হল থেকে উদ্ধার হচ্ছে সেই সব অস্ত্র। অস্ত্র মজুদের এই বিষয়টি নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়েছেন হলের প্রাধ্যক্ষরাও।

কারণ তাদের চোখের সামনে এসব অস্ত্র নিয়ে নানা সময়ে সংঘাত-সংঘর্ষের ঘটনা ঘটলেও নিতেন না কোনো পদক্ষেপ। অবশ্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলছে, তদন্ত সাপেক্ষে অস্ত্র রাখার ঘটনায় সবার বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তারা ইতিমধ্যে ক্যাম্পাসে অস্ত্রবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড নিয়ে অভিযোগ ও তথ্য আহ্বান করেছেন।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানিয়েছে, গত ৭ আগস্ট প্রথম দফায় বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলো খুলে দেওয়ার পর মেয়েদের হল বাদে, ছেলেদের প্রায় প্রতিটা হলে সমন্বয়ক, হল প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান এ সময় প্রায় সব হলের বিভিন্ন কক্ষ থেকে বিপুল পরিমাণ দেশি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। ওই কক্ষগুলো ছিল ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের।

গত ১১ আগস্ট নবাব আব্দুল লতিফ হলে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের কক্ষ থেকে চাপাতি, রামদা, ছুরি, লোহার রড, পাইপ, স্টাম্প ও বাঁশের লাঠি পাওয়া যায়। এরপর ১৩ আগস্ট শাহ্ মখ্দুম হলে, ১৮ আগস্ট সৈয়দ আমীর আলী হলে, ২০ আগস্ট মাদার বখশ্ হলে অভিযান চালিয়ে একই ধরনের অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। এরপর গত ১০ সেপ্টেম্বর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালিয়ে ছয়টি রামদা ও দুটি চাপাতি উদ্ধার করে। যদিও এই হলটিতেই ছাত্রলীগের অধিকাংশ নেতাকর্মীরা অবস্থান করতেন।

গত ১৬ জুলাই শিক্ষার্থীরা ছাত্রলীগ নেতাদের বিতাড়িত করতে হলে ভাঙচুর ও আগুন লাগিয়ে দেন। সে সময় ছাত্রলীগের সভাপতির কক্ষ থেকে দুটি পিস্তল ও প্রায় ২০টি রুম থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধার হয়। সবশেষ ২০ সেপ্টেম্বর জিয়াউর রহমান হল থেকে একটি পিস্তল ও একই রকম দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করে।

অভিযানের পর এখন থেকে হলগুলোকে অস্ত্রমুক্ত রাখতে চান প্রাধ্যক্ষরা। প্রাধ্যক্ষ পরিষদের আহ্বায়ক ও শাহ্ মখ্দুম হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক রুহুল আমিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, আগে একটা কর্র্তৃত্ববাদী সরকার ছিল। সেই সরকারের ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীরা জুলুম-নির্যাতনের সঙ্গে জড়িত ছিল। সে সময় যারা প্রাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তাদের সরাসরি দায় আছে সেটা আমি বলতে চাচ্ছি না।

তিনি বলেন, আমরা অনেক প্রাধ্যক্ষ নিজেরা উদ্যোগ নিয়ে প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলেছিলাম। তবে সেখানে আমরাই অসহায় হয়ে গিয়েছিলাম। কার কাছে বিচার দেব? কাকে অভিযোগ দেব? এ রকম একটা পরিস্থিতি ছিল। অবশ্য কিছু প্রাধ্যক্ষ অবশ্যই কর্র্তৃত্ববাদীদের দোসর হিসেবে কাজ করেছেন। তাদের নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে।

প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বলেন, আগের যারা প্রাধ্যক্ষ ছিলেন তাদের গাফিলতি ছিল, উদাসীনতা ছিল। যেখানে থাকার কথা ছিল বই-পুস্তক, পড়াশোনার সামগ্রী, সেখানে এখন দেখা যাচ্ছে অস্ত্র। এসব বিষয় নিয়ে কেন্দ্রীয়ভাবে একটা তদন্ত কমিটি গঠন করতে চাচ্ছি। তদন্তে যদি তাদের গাফিলতি বা জড়িত থাকা প্রকাশ পায় অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।