‘শেষবারের মতো মাকে কল দে, বলবি আর কোনোদিন দেখা নাও হতে পারে।’ গত রবিবার রাতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে এক নবীন শিক্ষার্থীকে এভাবেই মানসিক হয়রানি ও নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে মার্কেটিং বিভাগের দুই শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে গত সোমবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী নবীন শিক্ষার্থী মোহাম্মদ রকি। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের দর্শন বিভাগে অধ্যয়নরত।
ওই দুই শিক্ষার্থী হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী অন্তর বিশ্বাস এবং একই বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী নাজমুল হাসান নাভিল।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত রবিবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন বিনোদপুরের লেবুবাগান এলাকার ‘বিশ্বাস ম্যানসন’ ছাত্রাবাসে মোহাম্মদ রকি মানসিক নির্যাতন, হয়রানি ও হুমকির শিকার হন।
অভিযোগপত্রে মোহাম্মদ রকি উল্লেখ করেছেন, “গতকাল রবিবার রাত পৌনে ১২টা থেকে প্রায় দেড়টা পর্যন্ত মানসিক নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হয়েছি। ‘বিশ্বাস ম্যানসন’ ছাত্রাবাসের ২০১ ও ২০৫ নম্বর রুমের দুজন শিক্ষার্থী ১১টা ৪৫ মিনিটের দিকে আমার কক্ষে আসেন। শুরুতেই তারা আমাকে নানা রকম বিব্রতকর প্রশ্ন করেন। ফলে আমি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হই। কথাবার্তার একপর্যায়ে তারা আমাকে বলেন, ‘তোকে হলের গেস্টরুমে নিয়ে যাব, গেস্টরুমে নিয়ে গিয়ে তোকে আদর আপ্যায়ন করব।’ এরপর তারা বলেন, ‘শেষবারের মতো তোর মাকে কল দে, কল দিয়ে বলবি আর কোনোদিন দেখা নাও হতে পারে, আমি কোনো ভুল করলে আমাকে মাফ করে দিও।’ একপর্যায়ে তারা বলেন, ‘আবরার ফাহাদকে কীভাবে মারা হয়েছিল জানিস?’ আমি বলি, ‘জি ভাই পিটিয়ে মারা হয়েছিল।’ তারপর তারা বলেন, ‘তোকে এভাবে মারলে তখন কী করবি?’ তারপর আমি চুপ থাকি।”
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মোহাম্মদ রকি বলেন, ‘গত শুক্রবার তিনি মেসে উঠেছেন। এর মধ্যে একবার মেসে অবস্থানরত সবার কক্ষে গিয়ে পরিচিত হয়ে এসেছিলেন। এরপর রবিবার রাতে ওই দুজন তার কক্ষে এসে নানাভাবে হুমকি ও হয়রানি করেন। তার বিশ্ববিদ্যালয় জীবন কেবল শুরু, এ ঘটনা তিনি ভুলতে পারছেন না। ওইদিন রাতেও ঘুমাতে পারেননি। এ রকম ঘটনা যেন আর কারও সঙ্গে না ঘটে।’
অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে মার্কেটিং বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী নাজমুল হোসেন নাবিল বলেন, ‘আমার ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিভাগের বড় ভাই ওই ছেলের কক্ষে নিয়ে যান। একপর্যায়ে বড় ভাই রকির সঙ্গে মজা করেন। কিন্তু আমি সে রকম ইনফ্লুয়েন্স করিনি।
অভিযুক্ত আরেক শিক্ষার্থী অন্তর বিশ্বাস বলেন, ‘তার সঙ্গে খুবই সাধারণভাবে কথা বলা হয়েছে। কিন্তু বিষয়টা সে যেভাবে উপস্থাপন করেছে, সেভাবে হয়নি। আমাদের উদ্দেশ্য ছিল তার সঙ্গে একটা সম্পর্ক তৈরি করা। কিন্তু ব্যাপারটা এত দূরে চলে যাবে বুঝতে পারিনি।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান বলেন, ‘এটা অত্যন্ত দুঃখজনক একটি ঘটনা। একজন নতুন শিক্ষার্থীকে যেভাবে র্যাগিং দেওয়া হয়েছে, সেটা কোনোভাবেই কাম্য নয়। আমরা শিক্ষক হিসেবে এই বিষয়গুলোকে কখনোই প্রশ্রয় দিতে পারি না।