শ্রীপুর

ঝুট ব্যবসা নিয়ে বিএনপির দুই গ্রুপে সংঘর্ষ, গুলি ও ককটেল বিস্ফোরণ

গাজীপুরের শ্রীপুরে পোশাক কারখানায় ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে কৃষকদল ও যুবদলের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এদিন দুইপক্ষই দেশি-বিদেশি অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় অন্তত ১০টি হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটে।

বুধবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পৌরসভার সিএনবি বাজার এলাকার এসকিউ সেলসিয়াস পোশাক কারখানার সামনে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এসকিউ সেলসিয়াস লিমিটেড পোশাক কারখানা থেকে ঝুট (পরিত্যক্ত মালামাল) ব্যবসার ওয়ার্ক অর্ডার পান গাজীপুর জেলা যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এসএম পলাশ চঞ্চল। বুধবার চঞ্চল এসকিউ পোশাক কারখানার ঝুট বের করতে যান। এ সময় জেলা কৃষকদলের সভাপতি এসএম আবুল কালাম আজাদের কর্মী-সমর্থকরা আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ঝুট বোঝাই গাড়ি আটক করার জন্য কারখানার সামনে অবস্থান নেয়।

এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে ব্যাপক ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। দুই ঘণ্টাব্যাপী চলা সংঘর্ষে বেশ কিছু ককটেল বিস্ফোরণ ও কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ার ঘটনাও ঘটে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে।

কৃষকদলের আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, আমাকে জড়িয়ে মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। এটা রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র। আমার কোনো নেতা-কর্মী এ সংঘর্ষে জড়িত না। ঘটনার সময় ঢাকায় অবস্থান করছিলাম।

জেলা যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এসএম পলাশ চঞ্চল বলেন, কারখানা কর্তৃপক্ষ আমাকে ওয়ার্ক অর্ডার (কার্যাদেশ) দিয়েছে। সে অনুযায়ী বুধবার সকালে ঝুট বের করার জন্য আমার দু’টি পিকআপ কারখানায় প্রবেশ করে। খবর পেয়ে কৃষকদলের আহ্বায়ক এসএম আবুল কালাম আজাদের লোকজন লাঠিসোঁটা নিয়ে কারখানার সামনে অবস্থান নেয়। একপর্যায়ে তারা কারখানার সামনে আমার অফিসে হামলা করে। এ সময় অন্তত ১০টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে।

শ্রীপুর মডেল থানার ওসি জয়নাল আবেদীন মণ্ডল বলেন, এসকিউ সেলসিয়াস নামে পোশাক কারখানায় ঝুট নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ মারামারির ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে কোনো পক্ষই অভিযোগ করেনি। অভিযোগ করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গাজীপুর জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মেরাজুল ইসলাম বলেন, ঝুট ব্যবসা নিয়ে এ দেশে কি হয় তা আপনারাও জানেন। আমরা খবর পেয়ে এসেছি। তদন্ত শেষে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।