পাকিস্তানের করাচিতে দুই কিশোরীকে অপহরণ, নির্যাতন ও ধর্ষণের অভিযোগে এক পুলিশ সদস্যকে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে অভিযুক্ত করাচি কোম্পানি থানার স্টেশন হাউস অফিসারের (এসএইচও) বিরুদ্ধে।
পুলিশ কর্মকর্তারা সংবাদমাধ্যম দ্য ডনকে জানিয়েছেন, কিশোরীদের শামস কলোনি থানায় বেআইনিভাবে আটক করে যৌন নির্যাতন করা হয়। একই অভিযোগে শামস কলোনি থানার এসএইচওকেও সাসপেন্ড করা হয়েছিল। তবে যথাযথ প্রমাণ না পাওয়ায় কয়েক ঘণ্টা পর আদেশ প্রত্যাহার করা হয়।
মামলার বরাতে কর্মকর্তারা দ্য ডনকে জানায়, ভুক্তভোগীদের বাবা তাদের ভাইকে নিয়ে হাসপাতালে ছিলেন। এ সময় ওই দুই কিশোরীও সঙ্গে ছিল। গত ১৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় তারা জুস কিনতে গেলে আর ফেরেনি। অনেক খোঁজাখুঁজির পর ব্যর্থ হয়ে পুলিশকে তাদের নিখোঁজ হওয়ার কথা জানান।
এফআইআরে বলা হয়, পরে গত ১৮ সেপ্টেম্বর তিনি পুনর্বাসন কেন্দ্রে তার দুই সন্তানের সন্ধান পান। কর্তৃপক্ষ জানায়, এসআই তাদেকে হাসপাতাল থেকে অপহরণ করে করে শামস কলোনি থানায় নিয়ে যায়। সেখানে তাদের যৌন নির্যাতন ও আটকে রাখা হয়। পরে অভিযুক্ত এসআই গোলরা মোড়ের একটি জায়গায় নিয়ে আবার তাদের নির্যাতন করে। এরপর ভুক্তভোগী কিশোরীদের পুনর্বাসন কেন্দ্রে নিয়ে কর্মীদের হাতে তুলে দেন।
এ ঘটনায় ১৮ সেপ্টেম্বর করাচি কোম্পানি থানায় অভিযোগ করতে যান ভুক্তভোগীর বাবা। তবে এসএইচও এবং স্টেশন ক্লার্ক অভিযোগটি গ্রহণ করেননি এবং যথাযথ ব্যবস্থা নেয়নি। পরে ভুক্তভোগীর পরিবার ঘটনার একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় আপলোড করে, যা পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
এ ঘটনায় ডিআইজি সৈয়দ আলি রাজা তদন্ত করে ওই পুলিশ কর্মী ও করাচি কোম্পানির এসএইচওকে বরখাস্ত করেন। তার নির্দেশে অভিযুক্ত এসআইয়ের বিরুদ্ধে মামলা ও তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গ্রেপ্তারের পর অভিযুক্ত এসআইকে পশ্চিম ইসলামাবাদের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শাহজাদ খানের আদালতে হাজির করে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়। এ সময় আদালত ৪ দিনের রিমান্ডে মঞ্জুর করেন।