প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ সেই মাসদার হোসেনের

১৯৯৯ সালের ২ ডিসেম্বর আলোচিত মাসদার হোসেন মামলায় সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের রায়ের মাধ্যমে দেশের অধস্তন আদালতের বিচারকদের সিভিল সার্ভিসের সদস্য হিসেবে গণ্য না করে আলাদা সার্ভিস হিসেবে বিবেচনা করে দেশে বিচার বিভাগ পৃথককরণের দ্বার উন্মোচিত হয়।

এই মামলার অন্যতম আইনজীবী ছিলেন বর্তমান প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের পিতা ব্যারিস্টার সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদ (প্রয়াত)।

মাসদার হোসেন মামলার অন্যতম আবেদনকারী ছিলেন সাবেক জেলা ও দায়রা জজ মো. মাসদার হোসেন। এই মামলার মাধ্যমে তিনি দেশ জুড়ে আলোচনায় এসেছিলেন। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সুপ্রিম কোর্টে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন মাসদার হোসেন।

সাক্ষাৎকালে মাসদার হোসেন দেশের অধস্তন আদালতের বিচারকদের পক্ষে মামলা পরিচালনায় ব্যারিস্টার সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদের অবদান সম্পর্কে স্মৃতিচারণা করেন। তিনি বলেন স্বপ্রণোদিত হয়ে বিনা পারিশ্রমিকে মামলাটি পরিচালনা করে বিচার বিভাগ পৃথককরণে সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদ যে অনন্য ভূমিকা পালন করেছেন সেই অবদানকে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসের সদস্যরা আজও কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করেন।

মাসদার হোসেন মামলার রায় ১৯৯৯ সালে ২ ডিসেম্বর ঘোষিত হলেও পরবর্তী রাজনৈতিক সরকারগুলো এই রায় বাস্তবায়ন করেনি। এরপর ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি গঠিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ পৃথককরণের লক্ষ্যে ফৌজদারি কার্যবিধি সংশোধন এবং জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন বিধিমালা, ২০০৭ প্রণয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশে পৃথক জুডিশিয়াল সার্ভিস গঠন করে।

বর্তমান প্রধান বিচারপতি গত ২১ সেপ্টেম্বর দেশের অধস্তন আদালতের বিচারকদের প্রতি অভিভাষণ প্রদানকালে পৃথক বিচার বিভাগীয় সচিবালয় প্রতিষ্ঠাসহ বিচার বিভাগ পৃথককরণের রূপরেখা তুলে ধরেন।