আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তির যুগেও কাঠের লাঙ্গল, মই ও গরু দিয়ে হালচাষ করছেন দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার চাষিরা। কালের বিবর্তনে তা হারিয়ে গেলেও বাংলার এ অতীত ঐতিহ্যের চিত্র এখনও দেখা যায় যমুনা নদী তীরবর্তী বিরামপুর উপজেলাতে।
এ বিষয়ে বিরামপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কমল কৃষ্ণ রায় বলেন, ‘কৃষিতে আধুনিকতার ছোঁয়া লেগেছে। এই যুগে পশু দিয়ে হালচাষ ছেড়ে কৃষকদের আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে অভ্যস্ত হতে হবে। এ ক্ষেত্রে ভর্তুকি মূল্যে কেউ সরকারী সহযোগিতা নেয়ার আগ্রহী হলে উদ্যোগ নেয়া হবে।’
বাদমুখা এলাকার কৃষক জুলফিকার বলেন, ‘১০ বিঘা জমিতে চাষাবাদ করি। সরকারী ভর্তুকি মূল্যে উন্নত কৃষি যন্ত্রপাতি এতদিন সরকারী দলের নেতারা পেয়েছেন। এতে সরকারের কম মূল্যে কৃষি উৎপাদন করার উদ্দেশ্য ব্যাহত হয়েছে।’
কৃষিবিদ মাহফুজ বলেন, ‘অন্তবর্তীকালীন সরকার আধুনিক যন্ত্রপাতি ভর্তুকি মূল্যে বা সুদ মুক্ত ঋণ সহায়তা সঠিক ব্যক্তিদের দিলে, কৃষি চাষাবাদে উৎপাদন ব্যয় অনেক কমে যাবে।’
কৃষক মতিয়ার রহমান বলেন, ‘পূর্বপুরুষদের পেশা ছাড়িনি। হাল চাষের জন্য এক জোড়া গরু, লাঙল-জোয়াল, মই, ছড়ি, গরুর মুখের টোনা লাগে। লাঙ্গল দিয়ে মাটির গভীরে চাষ করা যায়। এতে জমিতে ঘাস কম হয়, আর হাল চাষের সময় গরুর গোবর সেই জমিতেই পড়ে এতে একদিকে যেমন জমিতে জৈব সারের চাহিদা পূরণ হয়, তেমনি ফসলও ভালো হয়।’