এই দিনে

অণুজীববিজ্ঞানী ও রসায়নবিদ লুই পাস্তুর ১৮২২ সালের ২৭ ডিসেম্বর ফ্রান্সের জুরা প্রদেশের দোল শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৮৪৭ সালে পদার্থবিদ্যা ও রসায়নে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৮৪৮ সালে দিজোঁ লিসির বিশ্ববিদ্যালয়ে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য রসায়নের অধ্যাপক হিসেবে চাকরি করেন। ১৮৪৯ সালে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের রেক্টরের মেয়ে মারি লরেন্তেকে বিয়ে করেন। তাদের পাঁচ সন্তানের তিনজনই প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার আগেই টাইফয়েড রোগে মারা যায়। নির্মম এ ঘটনায় মুষড়ে না পড়ে তিনি এর প্রতিকারে মনোনিবেশ করেছিলেন। এরপর তিনি স্ত্রাসবুর্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা শুরু করেন। এ সময় তিনি স্থানীয় মদের কলগুলোতে গাঁজন প্রক্রিয়া নিয়ে গবেষণা শুরু করেন। পাস্তুর মদের স্বাদ ঠিক রেখে ব্যাকটেরিয়া মুক্ত করার গবেষণা করেন। তিনি দেখেন মদকে গরম করলে ব্যাকটেরিয়া মরে যায় এবং মদের কোনো পরিবর্তন হয় না। পাস্তুর একই পদ্ধতি দুধের ক্ষেত্রেও প্রয়োগ করেন এবং ভালো ফল পান। পাস্তুরের এই পদ্ধতিই এখন বিশ্বব্যাপী ব্যবহৃত হচ্ছে। তার নামানুসারে এই পদ্ধতিকে ‘পাস্তুরায়ন’ নামকরণ করা হয়। ১৮৬৫ সালে ফ্রান্স সরকার পাস্তুরকে রেশম শিল্পের সমস্যা সমাধানে কাজ করার আহ্বান জানায়। পাস্তুর দেখেন রেশম পোকার সমস্যা বংশগত এবং মায়ের থেকে পরবর্তী প্রজন্মে সংক্রমিত হতে পারে। তিনি প্রস্তাব করেন শুধু রোগমুক্ত গুটি বাছাই করার মাধ্যমেই রেশম শিল্পকে বাঁচানো সম্ভব। লুই পাস্তুরই প্রথম অ্যানথ্রাক্সের ভ্যাকসিন আবিষ্কার করেন। এরপর তিনিই জলাতঙ্ক রোগ প্রতিরোধে ‘র‌্যাবিস ভ্যাকসিন’ আবিষ্কার করেন। ফ্রান্স সরকার তার গবেষণা কর্মকে আরও বিস্তৃত করার জন্য ‘পাস্তুর ইনস্টিটিউট’ স্থাপন করে। এই ইনস্টিটিউটের পরিচালক থাকাকালীন ১৮৯৫ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর লুই পাস্তুর মৃত্যুবরণ করেন।