গত কয়েকদিন ধরে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর অবস্থান লক্ষ্য করে একের পর এক বিমান হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল। এতে এখন পযন্ত কয়েক’শ মানুষ নিহত হয়েছে। ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকা থেকে শুরু হওয়া সংঘাত এখন আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নেওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। গত বছরের অক্টোবরে শুরু হওয়া হামাসের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের হামলায় নারী-শিশুসহ অন্তত ৪১ হাজার মানুষ নিহত হয়েছে।
ইসরায়েলের এমন হামলাকে অনেকেই ‘যুদ্ধাপরাধে’র সঙ্গে তুলনা করেছেন। তবে এমন অভিযোগকে প্রত্যাখ্যান করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি বলেছেন, ‘ইসরায়েলে কোনো প্রকৃত যুদ্ধাপরাধী নেই।’ শুক্রবার (২৭ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
নেতানিয়াহু বলেন, ‘যতক্ষণ পর্যন্ত হিজবুল্লাহ যুদ্ধের পথ বেছে নেবে, ইসরায়েলের কোনো বিকল্প নেই। ইসরায়েলের এই হুমকি দূর করার এবং আমাদের নাগরিকদের নিরাপদে তাদের বাড়িতে ফিরে যাওয়ার অধিকার রয়েছে। আমরা ঠিক এটাই করছি।’
‘তারা (হিজবুল্লাহ) ইরানে আছে। তারা গাজায়, সিরিয়ায়, লেবাননে, ইয়েমেনে। তোমাদের মধ্যে যারা এই অপরাধীদের সাথে দাঁড়াবে, যারা ভালোর বিরুদ্ধে মন্দের সাথে, আশীর্বাদের বিরুদ্ধে অভিশাপের সাথে দাঁড়াবে, তাদের নিজেদের লজ্জিত হওয়া উচিত, বলেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী। ‘আমাদের উদ্দেশ্য পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমরা হিজবুল্লাহকে নির্মূলের অভিযান চালিয়ে যাব’, নেতানিয়াহু যোগ করেন।
গাজার যুদ্ধ প্রসঙ্গে নেতানিয়াহু বলেন, ‘ইসরায়েল শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ গাজার বেসামরিক প্রশাসনকে সমর্থন করার জন্য আঞ্চলিক এবং স্থানীয় অংশীদারদের সাথে কাজ করতে প্রস্তুত। আমরা গাজায় পুনর্বাসনের চেষ্টা করছি না, আমরা গাজাকে নিরস্ত্রীকরণ করতে চাই। তবেই আমরা নিশ্চিত করতে পারব যে এই লড়াই হবে শেষ লড়াই।
এর আগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের হলে মঞ্চে উঠার পর পরই বিপুল সংখ্যক প্রতিনিধিকে হল ত্যাগ করতে দেখা যায়।