ব্যক্তিগত ১৪ পুকুর সংস্কার সরকারি ৬০ কোটি টাকায়!

রাজশাহী শহরের পুকুর সংরক্ষণ করতে গিয়ে ব্যক্তিগত ১৪টি পুকুরের পেছনে ৬০ কোটি টাকা ব্যয় করেছে রাজশাহী সিটি করপোরেশন। অভিযোগ উঠেছে, সংস্কার করতে গিয়ে পুকুরের চারপাশ জুড়ে সবুজায়ন না করে পাড় মোড়ানো হয়েছে কংক্রিটের আবরণে। ফলে বিশালায়তনের পুকুরগুলোকে হয়েছে চৌবাচ্চা। পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো বলছে, এমন প্রকল্পে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করেছে। তবে সিটি করপোরেশেন বলছে, এটা নগরবাসীর জন্য উপকারী।

সিটি করপোরেশনের নিজস্ব পুকুর না হয়েও ব্যক্তি মালিকানাধীন পুকুর সংরক্ষণে ৬০ কোটি টাকা ব্যয় কতটা যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

রাজশাহী সিটি করপোরেশনের তথ্য মতে, রাজশাহী নগরীর সমন্বিত নগর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে ৩ হাজার কোটি টাকা অনুমোদন দেয় সরকার। এরই অংশ হিসেবে ১৪টি পুকুর সংস্কারে ব্যয় করা হয় ৬০ কোটি টাকা। ২০২২ সালে নগরীর ২২টি জলাশয় সম্ভাব্য ভরাট ও ভূমি অধিগ্রহণ রোধে ৩ বছর মেয়াদি নেয়া প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছে ১২০৯ কোটি ১৩ লাখ টাকা।

নগরবাসী বলছেন, রাজশাহী নগরীতে সংস্কারের নামে বড় বড় পুকুরের চারপাশ ভরাট করে বিনোদন পার্ক বানিয়েছে সিটি করপোরেশন। তিন দশক আগে রাজশাহী নগরীতে আড়াই হাজার পুকুর থাকলেও এখন রয়েছে ৫ শতাধিক। প্রতিনিয়ত কমছে পুকুরের সংখ্যা। যেগুলো টিকে রয়েছে সেগুলোও সংস্কার নামে করা হচ্ছে হত্যা। কোটি কোটি টাকা ব্যয় এই ধরনের প্রকল্প কতটা জনবন্ধব বা পরিবেশ বান্ধব তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো। স্থানীয়দের দাবি, জলাশয় সংস্কার প্রকল্পের নামে লুটপাট হয়েছে অর্থ।

রাজশাহী নগরীর টিবি পুকুর এলাকার বাসিন্দা সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘এই পুকুর পাড়ে বসে আমরা আগে কত বাতাস খেয়েছি। কিন্তু এখন পুকুরই নেই। পানি থাকে না। চার পাশে মানুষ তেমন বসে না। সব সময় সিমেন্টের দেওয়ালগুলো গরম হয়ে থাকে। এগুলো করে আমাদের কোনো উপকার হয়নি বরং ক্ষতি হয়েছে।

এই পুকুর পাড়ের পাশের বাড়িতে থাকে নাজির উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘আগে এখানে বাড়িতে ঠা-া হাওয়া যেত পুকুরের কারণে। এটি এই এলাকার সব থেকে বড় পুকুর। তবে এটি এখন নাই। একটি ছোট চৌবাচ্চা হয়ে গেছে। পুকুরটিকে ধ্বংস করা হয়েছে।

পরিবেশবাদী সংগঠন বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) রাজশাহীর সমন্বয়ক তন্ময় সান্যাল বলেন, ‘সংস্কারের নামে সিটি করপোরেশনের এমন প্রকল্প পরিবেশ রক্ষা নয়, নষ্ট করবে ভারসাম্য। যদি রাষ্ট্রের প্রয়োজন হয় জনগণের স্বার্থে পুকুরকে পুকুর রেখেই প্রয়োজনে সংস্কার করা যেতে পারে। ভরাট না করেই সেটা করার কথা। পুকুর সংস্কারের নামে চৌবাচ্চা বানানো যাবে না।’

রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবি এম শরীফ উদ্দিন দাবি করে বলেন, জলাশয় সংস্কারের এই প্রকল্প নগরবাসী ও পরিবেশের জন্য উপকারী।