দেশে ফিরে মাহমুদুর রহমান

ফ্যাসিবাদীরা বিপ্লব নস্যাতের চেষ্টা করছে

নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে প্রায় ছয় বছর পরে দেশে ফিরেছেন দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমান। গতকাল শুক্রবার সকালে তুরস্ক থেকে তিনি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। এ সময় সহকর্মী ও শুভাকাক্ষিরা তাকে অভ্যর্থনা জানান। এ সময় মাহমুদুর রহমান বলেন, ‘পরাজিত ফ্যাসিবাদ বিদেশে বসে তার বিদেশি প্রভু এবং বাংলাদেশের এজেন্টদের নিয়ে বিপ্লবকে নস্যাৎ করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।’

পরে বিমান বন্দরে ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নসহ সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের নেতারা তাকে অভ্যর্থনা জানান। বিমানবন্দরের বাইরে সহস্রাাধিক ছাত্র-জনতা সমবেত হয় মাহমুদুর রহমানকে শুভেচ্ছা জানাতে। তিনি বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে গাড়ি থেকে সবার উদ্দেশ্যে হাত নেড়ে শুভেচ্ছার জবাব দেন। এ সময় শুভাকাক্সিক্ষদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘আপনাদের কাছে আমার অনুরোধ, আপনাদের মধ্যে যেন কোনো অনৈক্য না আসে।’

পরে বিমানবন্দরে মাহমুদুর রহমানকে গণ-সংবর্ধনা দেয় ফ্যাসিবাদবিরোধী ছাত্র-জনতা। সংবর্ধনার সময় মাহমুদুর রহমান তার বক্তব্যে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, ‘এই শহীদের আমরা কখনো ভুলব না।’ এ সময় তিনি দেশবাসীর প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি অভিযোগ করে বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকার তার বিরুদ্ধে শতাধিক মামলা দায়ের করেছে। আইনজীবী এখন পর্যন্ত ১০৭টি মামলার হিসাব আমাকে পাঠিয়েছে। আরও মামলা থাকতে পারে। সেই মামলার মধ্যে একটি উদ্ভট এবং বিচিত্র এক মামলায় আমাকে সাত বছরের সাজাও শুনিয়েছে সরকার। সেই মামলায় আমাদের বর্ষীয়ান সম্পাদক শফিক রেহমান সাহেবের সঙ্গে আমাকে জড়িয়েছে। শফিক ভাই খুব ভালো করেই জানেন যে, ওই মামলার সঙ্গে আমার বিন্দুমাত্র সম্পৃক্ততা নেই। তারপরও শেখ হাসিনা তার বিদ্বেষ চরিতার্থ করার জন্য আওয়ামী আদালত দিয়ে আমাকে সাত বছরের জেল দিয়েছে। এর বাইরেও আমার নামে গোটা পাঁচেক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা অপেক্ষা করছে। আমার মায়ের অসুস্থতা এবং আমার সাজা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানাÑ এই পরিস্থিতি বিবেচনা করে আমি আজকে রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়া সমীচীন মনে করছি না।’