লেবাননের রাজধানী বৈরুতে ইরান-সমর্থিত লেবাননভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সদর দপ্তরকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। শুক্রবার রাতভর বৈরুতের দক্ষিণ শহরগুলোতে কয়েকটি বিমান হামলা করা হয় হিজবুল্লাহ প্রধান হাসান নাসরুল্লাহকে লক্ষ্য করে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা রয়টার্সকে জানিয়েছেন যে, শুক্রবার রাতভর হামলা হয়। এমনকি শনিবার ভোর হওয়ার আগমূহুর্তে দাহিয়েহ শহরে ২০টিরও বেশি বিমান হামলার শব্দ পেয়েছেন তাঁরা। এ সময় বাড়িঘর ছেড়ে, হাজার হাজার লেবানিজ বৈরুত এবং সমুদ্রতীরবর্তী এলাকায় রাস্তায় ও ফুটপাতে জড়ো হয়।
তবে হামলার পর হিজবুল্লাহ প্রধান হাসান নাসরাল্লাহ বর্তমান পরিস্থিতি কি তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হতে পারেনি রয়টার্স। এদিকে হামলার কয়েক ঘণ্টা পার হওয়ার পরেও হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে তাদের প্রধানের অবস্থান জানিয়ে কোন বিবৃতি দেওয়া হয়নি।
অন্যদিকে নাসরুল্লাহকে লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালানো হয়েছে কিনা তা জানায়নি ইসরায়েল। তবে একজন সিনিয়র ইসরায়েলি কর্মকর্তা বলেছেন যে, হামলাতে মূলত হিজবুল্লাহর শীর্ষ কমান্ডারদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল।
তবে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে তারা হিজবুল্লাহর ক্ষেপণাস্ত্র ইউনিটের কমান্ডার মোহাম্মদ আলী ইসমাইল এবং তার ডেপুটি হোসেইন আহমেদ ইসমাইলকে হত্যা করেছে।
এর আগে হিজবুল্লাহর ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছিল যে হিজবুল্লাহ প্রধান নাসরাল্লাহ বেঁচে আছেন। ইরানের তাসনিম বার্তা সংস্থাও সে নিরাপদ বলে জানিয়েছে। ইরানের একজন সিনিয়র নিরাপত্তা কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেছেন যে তেহরান তার অবস্থা যাচাই করছে।
হিজবুল্লাহর আল-মানার টেলিভিশন জানিয়েছে, ইসরায়েলি হামলায় সাতটি ভবন ধ্বংস হয়েছে। লেবাননের নিরাপত্তা সূত্র জানায়, ইসরায়েলের মূল লক্ষ্য ছিল সেসব এলাকা, যেখানে হিজবুল্লাহর শীর্ষ কর্মকর্তারা বসবাস করেন।
এদিকে শনিবার ভোরে ইসরায়েলি ভূখণ্ডে পাল্টা হামলা চালিয়েছে হিজবুল্লাহ। লেবানন থেকে প্রায় ১০টি রকেট হামলা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। এসব রকেটের মধ্যে কিছু প্রতিহত করা হয়েছে এবং কিছু আঘাত হেনেছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েল। সেনাবাহিনীর এক বিবৃতিতে, ক্ষেপণাস্ত্রগুলি সনাক্ত করা যায়নি বলে জানানো হয়েছে। কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা আঘাতের কথা উল্লেখ করা হয়নি বিবৃতিতে।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় লেবাননে ইসরায়েলে হামলায় অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছে এবং ৯১ জন আহত হয়েছে। এখন পর্যন্ত লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে দেশটিতে।