লেবাননের বৈরুতে ইসরায়েলের বিমান হামলায় হিজবুল্লাহ প্রধান হাসান নাসরাল্লাহ নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। হিজবুল্লাহর অন্য দুই কমান্ডারদের সাথে নাসরাল্লাহ নিহত হয়েছেন বলে দাবি জানিয়েছে দেশটি।
গতকাল শুক্রবার রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণে ঘনবসতিপূর্ণ শহর দাহিয়েহসহ লেবাননের বিভিন্ন জায়গায় রাতভর হামলা চালায় ইসরায়েল। বিশেষ করে হিজবুল্লাহর সদর দপ্তর ও শীর্ষ কমান্ডারদের লক্ষ্য করে হামলা চালায় দখলদার দেশটি। খবর সিএনএন।
শনিবার এক বিবৃতিতে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানায়, ‘আইডিএফের হামলায় হিজবুল্লাহ সংগঠনের নেতা এবং এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা হাসান নাসরাল্লাহ, সংগঠনটির দক্ষিণ ফ্রন্টের কমান্ডার আলী কারকি এবং অতিরিক্ত হিজবুল্লাহ কমান্ডারদের সাথে নিহত হয়েছেন।
আইডিএফ জানায়, ইসরায়েলি বিমান বাহিনীর জেটগুলি হিজবুল্লাহ সংগঠনের কেন্দ্রীয় সদর দপ্তর লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে, যেটি বৈরুতের দাহিয়েহ এলাকায় একটি আবাসিক ভবনের নীচে ভূগর্ভস্থ ছিল।“
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “হিজবুল্লাহর সিনিয়র চেইন অফ কমান্ড যখন সদর দপ্তর থেকে কাজ করছিল এবং ইসরায়েলের নাগরিকদের বিরুদ্ধে কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছিল তখন এই হামলা চালানো হয়েছিল।”
পরবর্তীতে শনিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে এক বার্তায় ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী হিজবুল্লাহ প্রধানের নিহতের খবর জানায়। বার্তায় বলা হয়, ‘হাসান নাসরুল্লাহ আর বিশ্বে সন্ত্রাসবাদ পরিচালনা করতে পারবেন না।’
লেবাননের রাজধানী বৈরুতের দক্ষিনাঞ্চলীয় শহর দাহিয়েহতে হিজবুল্লাহর শক্তিশালী উপস্থিতি রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। আর হিজবুল্লাহ ধ্বংসের লক্ষ্যের শুক্রবার রাতভর শহরটিতে হামলা চালায় ইসরায়েল।
এর আগে শুক্রবার ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) মুখপাত্র ড্যানিয়েল হাগারি জানিয়েছিলেন যে, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী হিজবুল্লাহর সদর দপ্তর লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।
তবে ইসরায়েলের দাবির বিষয়ে কিংবা হিজবুল্লাহ প্রধানের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করেনি হিজবুল্লাহ। হামলায় হাসান নাসরুল্লাহর ভাগ্যে কী ঘটেছে, সেটা নিয়েও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি সংগঠনটি। তবে হিজবুল্লাহর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র রয়টার্সকে বলেছে, তাঁর (নাসরুল্লাহ) নাগাল পাওয়া যায়নি।