সাম্প্রতিক সময়ে দীঘিনালা, খাগড়াছড়ি ও রাঙ্গামাটিতে সংঘটিত সহিংস ঘটনায় চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয় থেকে সাত সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটিকে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে ঘটনাস্থল সরেজমিন পরিদর্শন ও তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিভাগীয় কমিশনার মো. তোফায়েল ইসলামের স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে বলা হয়, কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনারকে (উন্নয়ন)। এ ছাড়া সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রাঙ্গামাটি, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট খাগড়াছড়ি, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বান্দরবান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাঙ্গামাটি, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খাগড়াছড়ি এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বান্দরবান।
আদেশে আরও বলা হয়, সংঘটিত সহিংস ঘটনার প্রকৃত কারণ, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিতকরণ এবং ভবিষ্যতে একই জাতীয় ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে যথাযথ সুপারিশ প্রণয়ন করতে বলা হয়েছে।
তদন্ত কমিটি প্রত্যাখ্যান ইউপিডিএফের : সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনা তদন্তের জন্য সরকার থেকে গঠিত সাত সদস্যের তদন্ত কমিটিকে প্রত্যাখ্যান করে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে ও অংশগ্রহণে স্বাধীন এবং অবাধ তদন্তের দাবি জানিয়েছে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)। ইউপিডিএফের প্রচার ও প্রকাশনা বিভাগের দায়িত্বরত নিরন চাকমার পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ দাবি জানানো হয়।
গতকাল শনিবার এক বিবৃতিতে ইউপিডিএফের সহসভাপতি নূতন কুমার চাকমা বলেছেন, ইউপিডিএফের দাবিকে পাশ কাটিয়ে সরকার থেকে বৃহস্পতিবার একতরফাভাবে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে, এই কমিটির প্রতি পার্বত্য চট্টগ্রাম তথা দেশের জনগণের কোনো আস্থা নেই।
অতীতে বিভিন্ন সময় গঠিত তদন্ত কমিটিগুলোর ব্যর্থতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘লোগাং গণহত্যা ও কল্পনা চাকমার অপহরণ তদন্তের জন্য গঠিত দুটি তদন্ত কমিশন সম্পর্কে জনগণের অভিজ্ঞতা মোটেই সুখকর নয়। এই কমিটিগুলো স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছিল।’