বেলা শেষে বদলী মইনুলে মিললো জয়ের স্বাদ

বাংলাদেশ ২-০ ভুটান

সিরিয়া ও ভিয়েতনামের কাছে হার ও গুয়ামের সঙ্গে ড্র করে আগেই অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপ চূড়ান্ত পর্বের স্বপ্ন শেষ হয়ে গিয়েছিল। পাঁচ দলের 'এ' গ্রুপের পয়েন্ট টেবিলে সবার নিচে থেকে ভুটানের মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশ। ভিয়েতনামের লাচ ট্রে স্টেডিয়ামে নিজেদের শেষ ম্যাচটা বাংলাদেশ ২-১ গোলে জিতে শেষ করলো তৃতীয় হয়ে। শেষবেলায় এসে মারুফুল হকের দলকে জয়ের স্বাদ উপহার দিয়েছেন সুপার সাব মইনুল ইসলাম। ৮৩ মিনিটে আশরাফুল হক আসিফের বদলী হিসেবে মাঠে নামা মইনুল তিন মিনিট পর অসাধারণ গোলে দলের জয় নিশ্চিত করেন। এর আগে চতুর্থ মিনিটে আসাদুল মোল্লা দলকে এগিয়ে নিলেও ৭১ মিনিটে আসাদুল ইসলাম সাকিবের আত্মঘাতী গোলে জয় হাতছাড়ার শঙ্কা জেগেছিল বাংলাদেশের। 

চার ম্যাচ থেকে বাংলাদেশের সংগ্রহ চার পয়েন্ট। সমান ৯ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষ দুটি স্থানে থাকা সিরিয়া ও ভিয়েতনাম রবিবার রাতেই মুখোমুখি হয়েছে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার লক্ষ্যে। বাংলাদেশ-ভুটান ম্যাচের আগ পর্যন্ত ২ পয়েন্ট নিয়ে তিনে ছিল গুয়াম। ভুটানকে হারিয়ে সেই জায়গা দখল করেছে বাংলাদেশ। ভুটানকে শেষ করতে হয়েছে তলানীতে থেকে। 

ভুটানকে হারানোয় জয়ের সান্ত্বনা সঙ্গী হয়েছে বাংলাদেশের ঠিক, তবে এই বাছাইয়ে তারা গিয়েছিল আরও বড় স্বপ্ন নিয়ে। সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জয়ের পর আত্মবিশ্বাস বেড়েছিল অনেক। তবে মাঠ ও মাঠের বাইরে অনেকগুলো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় খর্ব শক্তির দলে পরিণত হয় বাংলাদেশ। তাছাড়া কোচ মারুফুল হকের এক গুঁয়েমির মাশুলও গুনতে হয় দলকে। মারুফুল দলের সেরা গোলকিপার মোহাম্মদ আসিফকে বাদ দিয়ে দল গড়েন বসুন্ধরা কিংসের সঙ্গে বিরোধের জেড়ে। আসিফের জায়গায় খেলা মাহিন চার ম্যাচেই শিশুতোষ সব ভুল করে দলকে ডুবিয়েছেন। তাই ভুটানের বিপক্ষে রবিবার মাহিনের জায়গায় দেখা গেছে ইশহাক আকন্দকে। 

ম্যাচের শুরুতেই গোল পেয়ে যায় বাংলাদেশ। মিরাজুল ইসলামের আড়াআড়ি পাসে ডান দিক থেকে ক্রস হাওয়ায় ভাসিয়েছিলেন আসাদুল। যা ভুটান কিপারকে সুযোগ না দিয়ে দূরের পোস্টে জড়িয়ে যায়। ৩৫ মিনিটে সমতায় ফেরার সেরা সুযোগ কাজে লাগেনি ভুটানের। অফসাইড ফাঁদ ভেঙে আক্রমনে উঠে বক্সের ওপর থেকে বাংলাদেশের আগুয়ান কিপারের পাশ দিয়ে শট নিয়েছিলেন জিগমে নামগিল। তবে সেটা বাইরের নেট কাঁপায়। জিগমের আরেকটি প্রচেষ্টা সাইড পোস্ট ফিরিয়ে দিলে হতাশা সঙ্গী করে বিরতিতে যেতে হয় ভুটানকে।

ম্যাচের একটি মুহূর্ত 

বিরতি থেকে ফিরে একই তালে খেলতে থাকা বাংলাদেশের হয়ে ৭০ মিনিটে পিয়াস আহমেদ নোভা বল জালে জড়িয়েছিলেন। তবে অফসাইডে তা বাতিল হয়। পরের মিনিটে ভুটান সমতায় ফিরে সাকিবের আত্মঘাতী গোলে। নিজেদের অর্ধ্ব থেকে পেমা জেঙপো লম্বা বল ফেলেছিলেন বাংলাদেশের রক্ষণে। সেটা আয়ত্বে নিতে বের হয়ে এসেছিলেন ইশহাক। তবে সাকিব বক্সের উপর থেকে হেড করে বল ক্লিয়ার করতে গিয়েছিলেন। তার হেড সাইড পোস্টে আঘাত করে গোললাইন অতিক্রম করলে ভুটান ম্যাচে ফিরে।

তবে ৮৬ মিনিটে বাংলাদেশের জয় নিশ্চিত করেন তিন মিনিট আগে মাঠে আসা মইনুল। আসাদুল মোল্লার কাছ থেকে বল পেয়ে বেশ খানিকটা এগিয়ে বক্সের বাইরে থেকে বাঁ পায়ের অসাধারণ শটে ভুটান কিপারকে পরাস্ত করে এই তরুণ। তাতেই তৈরী হয় জয় নিয়ে দেশে ফেরার সুযোগ।